জানালার কাচ বেয়ে নেমে আসা বৃষ্টির ফোঁটা, মাটির গন্ধ আর অলস বিকাল মানেই বর্ষা। গরম চায়ের কাপ হাতে কিছু কড়মড়ে খাবার এই সময়ের আনন্দকে কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। তাই বর্ষা এলেই ঘরে-বাইরে জমে ওঠে কড়মড়ে খাবারের আয়োজন। পরিবার, বন্ধু কিংবা প্রিয়জন সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার জন্য এই সময়ের কড়মড়ে পদগুলো যেন হয়ে ওঠে ছোট ছোট সুখের উপলক্ষ।
বৃষ্টির সঙ্গে কড়মড়ে
আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে মানুষের খাবারের রুচিও বদলে যায়। বর্ষার ঠান্ডা আবহে গরম, মচমচে খাবার খেতে মন চায় বেশি। বৃষ্টির দিনে বাইরে যাওয়া কম হয়, ফলে ঘরে বসেই ছোটখাটো আয়োজনের প্রবণতা বাড়ে। এক কাপ ধোঁয়া ওঠা চায়ের সঙ্গে কড়মড়ে কোনো খাবার মুহূর্তেই এনে দেয় আরাম। এ যেন শুধু ক্ষুধা মেটানোর বিষয় নয়, বরং অনুভূতিরও একটি অংশ।
পেঁয়াজি-বেগুনিতে জমে আড্ডা
বর্ষার কুড়মুড়ে খাবারের তালিকায় সবার আগে আসে পেঁয়াজি, বেগুনি, আলুর চপ, ডালের বড়া কিংবা ফুলুরি। গরম তেলে ভাজা এসব খাবারের সুবাস মুহূর্তেই পরিবারের সবাইকে টেবিলে টেনে আনে। ঘরোয়া আড্ডা হোক কিংবা অতিথি আপ্যায়ন এ ধরনের ভাজাপোড়া খাবারের জনপ্রিয়তা কখনোই কমে না। অনেকেই আবার নিজস্ব মসলা কিংবা বিশেষ ব্যাটার ব্যবহার করে এসব খাবারে ভিন্ন স্বাদ যোগ করেন।
স্ট্রিট ফুডের টান
বর্ষার দিনে রাস্তার পাশের খাবারের দোকানগুলোতেও ভিড় বেড়ে যায়। ফুচকা, ঝালমুড়ি, চটপটি, পাকোড়া, চিকেন ফ্রাই, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই কিংবা ক্রিসপি নাগেটস সবই তখন হয়ে ওঠে লোভনীয়। বৃষ্টির ফাঁকে ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে গরম গরম কিছু খাওয়ার আনন্দ আলাদা। যদিও স্বাস্থ্যবিধির কথা মাথায় রেখে পরিচ্ছন্ন দোকান বেছে নেওয়া জরুরি।
ঘরেই বানিয়ে নিন
এখন অনেকেই বাইরে থেকে না কিনে ঘরেই কড়মড়ে খাবার তৈরি করতে পছন্দ করেন। ইউটিউব বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া নানা রেসিপি দেখে খুব সহজেই তৈরি করা যায় চিকেন পপকর্ন, কর্ন ফ্রিটার, ক্রিসপি পটেটো ওয়েজেস, ব্রেড রোল কিংবা চিজ বল। এতে যেমন পরিবারের সবাই একসঙ্গে সময় কাটাতে পারেন, তেমনি নিজের পছন্দমতো উপকরণ ব্যবহার করায় খাবারও হয় তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর।
স্বাদে থাকুক নতুনত্ব
একই ধরনের খাবার বারবার খেতে খেতে একঘেয়েমি আসতেই পারে। তাই বর্ষার মেনুতে নতুনত্ব আনতে পারেন নানা ধরনের সবজি দিয়ে টেম্পুরা, মাশরুম ফ্রাই, কর্ন কাটলেট, চিকেন স্ট্রিপস কিংবা ওটস দিয়ে তৈরি স্বাস্থ্যকর কাটলেট। শিশুদের জন্য বিভিন্ন আকৃতির কড়মড়ে স্ন্যাকস তৈরি করলে তাদের আগ্রহও বেড়ে যায়। পরিবেশনেও একটু সৃজনশীলতা যোগ করলে খাবারের আকর্ষণ আরও বাড়ে।
স্বাস্থ্যের কথাও থাকুক মাথায়
ভাজাপোড়া খাবার সুস্বাদু হলেও অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। একই তেল বারবার ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকতে হবে। সম্ভব হলে সরিষার তেল, রাইস ব্র্যান অয়েল বা ভালো মানের সয়াবিন তেল ব্যবহার করা যেতে পারে। খাবারের সঙ্গে সালাদ, শসা, টমেটো কিংবা লেবু রাখলে স্বাদ যেমন বাড়ে, তেমনি পুষ্টির ভারসাম্যও বজায় থাকে। যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরলের সমস্যা রয়েছে, তাদের পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো।
বর্ষার আনন্দ আরও রঙিন
বৃষ্টি থামুক কিংবা ঝড়ুক টুপটাপ, বর্ষার প্রতিটি দিনকে একটু বেশি উপভোগ করার জন্য খুব বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। এক কাপ গরম চা, প্রিয় মানুষদের উপস্থিতি আর কিছু কড়মড়ে খাবারই যথেষ্ট। ব্যস্ত জীবনের মাঝেও এমন ছোট ছোট মুহূর্ত আমাদের মনকে সতেজ করে, সম্পর্ককে আরও উষ্ণ করে তোলে। তাই বর্ষা এলে কড়মড়ে খাবারের স্বাদে, আড্ডার উচ্ছ্বাসে আর বৃষ্টির সুরে উপভোগ করুন ঋতুর সবচেয়ে মধুর সময়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি