যেভাবে দূর থেকেও মিষ্টি খাবারের সন্ধান পায় পিঁপড়েরা

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

ঘরের মেঝেতে বা রান্নাঘরের কোনো কোণায় সামান্য চিনি, মিষ্টি, দুধ কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবারের কণা পড়ে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে

2026-08-03T20:02:25+00:00
2026-08-03T20:02:25+00:00
 
  সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬,
১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার, ৩ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
যেভাবে দূর থেকেও মিষ্টি খাবারের সন্ধান পায় পিঁপড়েরা
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:০২ পিএম 
মানুষের নাক যেখানে অনেক গন্ধই শনাক্ত করতে পারে না, সেখানে পিঁপড়েরা চিনির ক্ষুদ্রতম কণা বা মিষ্টিজাতীয় পদার্থের উপস্থিতিও সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম। সংগৃহীত ছবি
ঘরের মেঝেতে বা রান্নাঘরের কোনো কোণায় সামান্য চিনি, মিষ্টি, দুধ কিংবা মিষ্টিজাতীয় খাবারের কণা পড়ে থাকলে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে পিঁপড়ের সারি দেখা যায়। অনেকের কাছেই বিষয়টি বিস্ময়কর মনে হলেও এর পেছনে রয়েছে পিঁপড়ের অত্যন্ত উন্নত ঘ্রাণশক্তি, রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করার অসাধারণ ক্ষমতা এবং সুসংগঠিত দলগত আচরণ।   

পিঁপড়ের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংবেদনশীল অঙ্গ হলো তাদের মাথার সামনের অংশে থাকা অ্যান্টেনা বা শুঁড়। এই শুঁড়ের মাধ্যমে তারা চারপাশের পরিবেশের রাসায়নিক পরিবর্তন, গন্ধ এবং খাদ্যের উপস্থিতি খুব সূক্ষ্মভাবে অনুভব করতে পারে। মানুষের নাক যেখানে অনেক গন্ধই শনাক্ত করতে পারে না, সেখানে পিঁপড়ের অ্যান্টেনা চিনির ক্ষুদ্রতম কণা বা মিষ্টিজাতীয় পদার্থের উপস্থিতিও সহজেই শনাক্ত করতে সক্ষম।

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে, পিঁপড়ের জিনোমে ঘ্রাণ-সংবেদনশীল জিনের সংখ্যা অন্যান্য অনেক পোকামাকড়ের তুলনায় কয়েক গুণ বেশি। তাদের শরীরে প্রচুর সংখ্যক ওলফ্যাক্টরি (ঘ্রাণ) ও গাস্টেটরি (স্বাদ) রিসেপ্টর রয়েছে। ফলে মেঝেতে পড়ে থাকা কয়েকটি চিনির দানা, মিষ্টির গুঁড়ো, গুড়ের কণা, চায়ের ফোঁটা, দুধের দাগ কিংবা ফলের রসের সামান্য অংশও তাদের কাছে স্পষ্ট সংকেত হিসেবে ধরা পড়ে।  

পিঁপড়েরা সব সময় দল বেঁধে খাদ্যের সন্ধানে বের হয় না। একটি কলোনি থেকে প্রথমে কয়েকটি অনুসন্ধানকারী বা স্কাউট পিঁপড়ে চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। এদের কাজ হলো আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করা এবং সম্ভাব্য খাদ্যের উৎস খুঁজে বের করা। কোনো স্কাউট পিঁপড়ে খাবারের সন্ধান পেলে সেটি পরীক্ষা করে এবং খাদ্যের মান ও পরিমাণ সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।


এরপর শুরু হয় পিঁপড়েদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ প্রক্রিয়া। খাবার পাওয়ার পর স্কাউট পিঁপড়ে বাসায় ফেরার সময় পথজুড়ে ফেরোমোন নামে এক ধরনের রাসায়নিক পদার্থ নিঃসরণ করে। এই ফেরোমোন মাটিতে একটি অদৃশ্য রাসায়নিক পথ তৈরি করে, যা একই কলোনির অন্য পিঁপড়েদের জন্য দিকনির্দেশনার কাজ করে।

পরবর্তীতে অন্যান্য পিঁপড়ে সেই ফেরোমোনের গন্ধ অনুসরণ করে সরাসরি খাদ্যের উৎসে পৌঁছে যায়। যদি খাদ্যের পরিমাণ বেশি হয়, তাহলে আরও বেশি সংখ্যক পিঁপড়ে একই পথে চলাচল করতে থাকে। এতে ফেরোমোনের ঘনত্ব আরও বৃদ্ধি পায় এবং রাসায়নিক পথটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। ফলস্বরূপ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে শত শত পিঁপড়ের উপস্থিতি দেখা যায়।

গবেষকদের মতে, এই ফেরোমোন-ভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা অনেকটা আধুনিক জিপিএস নেভিগেশনের মতো কাজ করে। যেমন জিপিএস কোনো নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ নির্দেশ করে, তেমনি ফেরোমোনের রাসায়নিক পথ পিঁপড়েদের নির্ভুলভাবে খাদ্যের অবস্থান পর্যন্ত নিয়ে যায়। এমনকি খাদ্য সংগ্রহ শেষ হওয়ার পর ফেরোমোনের ঘনত্ব ধীরে ধীরে কমে যায় এবং পিঁপড়েরাও সেই পথ ব্যবহার করা বন্ধ করে দেয়।

মিষ্টিজাতীয় খাবারের প্রতি পিঁপড়েদের বিশেষ আকর্ষণেরও বৈজ্ঞানিক কারণ রয়েছে। চিনি, মধু, ফলের রস, গুড় ও অন্যান্য মিষ্টি পদার্থে প্রচুর শক্তি বা কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা পিঁপড়েদের দৈনন্দিন কার্যক্রম এবং পুরো কলোনির টিকে থাকার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই তারা স্বাভাবিকভাবেই এসব খাবারকে অগ্রাধিকার দিয়ে খুঁজে বেড়ায়।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, পিঁপড়ের অ্যান্টেনা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তারা খাদ্যের উৎস খুঁজে পাওয়া, নিজেদের কলোনির সদস্যদের চিনতে পারা কিংবা রাসায়নিক সংকেত অনুসরণ করার ক্ষমতা অনেকাংশে হারিয়ে ফেলে। অর্থাৎ অ্যান্টেনা এবং ফেরোমোন—এই দুই ব্যবস্থাই পিঁপড়ের জীবনধারা, যোগাযোগ এবং খাদ্য সংগ্রহের মূল ভিত্তি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, পিঁপড়েরা মিষ্টি খাবারের সন্ধান পায় তাদের উন্নত ঘ্রাণ ও স্বাদগ্রাহক রিসেপ্টর, অ্যান্টেনার মাধ্যমে রাসায়নিক সংকেত শনাক্ত করার ক্ষমতা এবং ফেরোমোন-নির্ভর যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে। এই সমন্বিত প্রক্রিয়াই তাদের খুব অল্প সময়ের মধ্যে খাবারের অবস্থান নির্ণয় করতে এবং পুরো কলোনিকে সেখানে নিয়ে যেতে সহায়তা করে।


সময়ের আলো/ইউএমএইচ


  বিষয়:   পিঁপড়  মিষ্টি খাবার 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: