ইলিশের মৌসুমে বাজারে গেলেই চোখে পড়ে রুপালি ঝলমলে নানা ধরনের মাছ। দেখতে অনেকটা ইলিশের মতো হওয়ায় সার্ডিন বা চন্দনা ইলিশকে অনেক সময় আসল ইলিশ বলে বিক্রি করা হয়। তাই ইলিশ কিনতে গিয়ে প্রতারিত না হতে মাছ চেনার কিছু সহজ উপায় জানা থাকা দরকার।
পেট ও পিঠের গড়ন দেখুন
আসল ইলিশের পেট ও পিঠ- দুই অংশই প্রায় সমানভাবে বাঁকানো থাকে। তবে, সার্ডিন বা চন্দনা ইলিশের পেটের অংশ পিঠের তুলনায় বেশি বাঁকানো।
আকারে পার্থক্য
সার্ডিন আকারে ইলিশের তুলনায় অনেক ছোট। সাধারণত সার্ডিনের দৈর্ঘ্য ৭ থেকে ২০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। অন্যদিকে, আসল ইলিশ ৭৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হতে পারে।
মাথার আকৃতি
সার্ডিনের মাথা তুলনামূলক ছোট এবং সামনের অংশ ভোঁতা। আসল ইলিশের মাথা লম্বাটে এবং সামনের অংশ কিছুটা সূচালো।
গন্ধেও বোঝা যায়
আসল ইলিশ নাকের কাছে নিলে স্বতন্ত্র ইলিশের গন্ধ পাওয়া যায়। সার্ডিনে সাধারণত সেই গন্ধ থাকে না।
চোখের আকার
সার্ডিনের চোখ আসল ইলিশের তুলনায় বড়। তাই মাছ কেনার সময় চোখের আকৃতির দিকেও নজর দিন।
পাখনার রং
সার্ডিনের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগ ও পুচ্ছ পাখনার কিনারা কিছুটা ঘোলাটে রঙের হয়। অন্যদিকে, আসল ইলিশের পৃষ্ঠীয় পাখনার অগ্রভাগ ও পুচ্ছ পাখনার কিনারা অনেকটা সাদাটে।
টাটকা নাকি হিমায়িত
হিমায়িত সমুদ্রের ইলিশের রং সাধারণত অনুজ্জ্বল ও ফ্যাকাসে হয়। টাটকা ইলিশ তুলনামূলক শক্ত থাকে। মাছটি হাত দিয়ে উঁচু করে ধরলে এর আকার সহজে পরিবর্তন হয় না। অন্যদিকে, বাসি ইলিশ পেটের কাছে ধরে তুললে মাথা ও লেজ নিচের দিকে হেলে পড়ে।
কানকোর রং দেখুন
টাটকা ইলিশের কানকো টকটকে লাল রঙের হয়। হিমায়িত বা বাসি ইলিশের কানকো সাধারণত বাদামি কিংবা কালচে রঙের হয়ে থাকে।
চোখ স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল কি না দেখুন
টাটকা ইলিশের চোখ স্বচ্ছ ও উজ্জ্বল থাকে। দীর্ঘসময় হিমঘরে রাখা ইলিশের চোখ ঘোলাটে হয়ে যায় এবং কিছুটা ভেতরের দিকে ঢুকে থাকে।
সময়ের আলো/মহু