বাংলাদেশে সরকারবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন ও ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রধান অভিজিৎ দীপক। আন্দোলনের মূল্যায়ন নিয়ে তাদের ভিন্নমুখী বক্তব্য ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের সংবাদমাধ্যম জিনিউজ বাংলা এ তথ্য জানিয়েছে।
সম্প্রতি এক সামাজিকমাধ্যম পোস্টে তসলিমা নাসরিন দাবি করেন, বাংলাদেশে যে আন্দোলনকে ছাত্রদের অধিকার ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তবে তার নেপথ্যে ভিন্ন উদ্দেশ্য কাজ করেছে। তার মতে, আন্দোলনের পরিণতিতে ধর্মান্ধ ও মৌলবাদী শক্তির প্রভাব বেড়েছে এবং শুরুতে যারা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়েছিলেন, তারা শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ফল পাননি।
তসলিমা আরও বলেন, আন্দোলন-পরবর্তী বাস্তবতা সাধারণ মানুষ ও প্রগতিশীল মহলের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়নি। তার ভাষ্য, আন্দোলনের প্রকৃত পরিণতি সম্পর্কে অনেকেই শুরুতে ধারণা করতে পারেননি।
এ বক্তব্যের জবাবে সামাজিক মাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানান সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপক। তিনি তসলিমার বিশ্লেষণের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে লেখেন, একটি গণআন্দোলনকে কেবল তার রাজনৈতিক পরিণতির ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত নয়।
অভিজিৎ দীপকের মতে, কোনো আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে কোনো গোষ্ঠী রাজনৈতিক সুবিধা আদায় করলে সেটি আন্দোলনের মূল লক্ষ্য বা অংশগ্রহণকারীদের উদ্দেশ্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে না। তিনি বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠা ও গণতান্ত্রিক দাবিতে পরিচালিত আন্দোলনের মূল্যায়ন করতে হলে তার মূল উদ্দেশ্য ও প্রেক্ষাপটকে গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও মন্তব্য করেন, বৈষম্য, স্বৈরাচার কিংবা অগণতান্ত্রিকতার বিরুদ্ধে পরিচালিত নাগরিক আন্দোলনকে এককভাবে মৌলবাদের সঙ্গে যুক্ত করা বা তার দায় সব প্রগতিশীল মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া সঙ্গত নয়।
দুই পক্ষের এই মতবিরোধের পর সামাজিক মাধ্যমে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একাংশের ব্যবহারকারী তসলিমা নাসরিনের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করে দাবি করছেন, আন্দোলনের সুযোগে বাংলাদেশে সহিংসতা ও ধর্মীয় বৈষম্য বেড়েছে।
অন্যদিকে অনেকেই অভিজিৎ দীপকের অবস্থানকে সমর্থন জানিয়ে বলছেন, কোনো আন্দোলনের পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতা দিয়ে পুরো গণআন্দোলনকে বিচার করা ঠিক নয়। তাদের মতে, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অংশ নেওয়া আন্দোলনকারীদের আত্মত্যাগকে অস্বীকার করা বা পুরো আন্দোলনকে প্রতারণা হিসেবে আখ্যা দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয়।
সময়ের আলো/এসএকে