দক্ষিণ কোরিয়ায় নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মে থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত দেশটিতে তাপজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ২৫ জন। পরিস্থিতিকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং বলেছেন, চরম আবহাওয়া এখন নতুন স্বাভাবিক বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। তাই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা ব্যবস্থায় মৌলিক পরিবর্তন আনার সময় এসেছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) রাজধানী সিউলের পুরো এলাকায় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো তাপপ্রবাহ সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া অধিদপ্তর। এর আগে সোমবার সিউল ও গিয়ংগি প্রদেশের কিছু এলাকায় এ সতর্কতা দেওয়া হয়েছিল।
প্রেসিডেন্ট লি মন্ত্রিসভার বৈঠকে কর্মকর্তাদের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, মানুষের স্বাভাবিক জীবন রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ জোরদার করতে হবে। পাশাপাশি শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থাও পরীক্ষা করার নির্দেশ দেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, রোববার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে তাপমাত্রা ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়, যা ১২২ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানী সিউলে তাপমাত্রা ছিল ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাতেও তা প্রায় ২৯ ডিগ্রির নিচে নামবে না বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। নাগরিকদের ঘরের বাইরে কম বের হওয়া এবং পর্যাপ্ত পানি পান করার পরামর্শ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এছাড়া নগরজুড়ে প্রায় চার হাজার সরকারি স্থাপনাকে অস্থায়ী শীতলীকরণ কেন্দ্র হিসেবে চালু করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বিশ্বজুড়ে আরও ঘন ঘন ও তীব্র হচ্ছে।
এদিকে জাপানেও তীব্র গরমে জনজীবন বিপর্যস্ত। দেশটির আবহাওয়া বিভাগ ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি তাপমাত্রার দিনগুলোকে ‘নিষ্ঠুর গরমের দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করছে। টোকিওর তামা চিড়িয়াখানা জানিয়েছে, হিটস্ট্রোকজনিত জটিলতায় গত এক সপ্তাহে তাদের তিনটি সিংহ মারা গেছে।
ইউরোপেও চলতি গ্রীষ্মে তীব্র দাবদাহ অব্যাহত রয়েছে। জার্মানিতে ২০২৬ সালে তাপপ্রবাহজনিত মৃত্যুর সংখ্যা ইতোমধ্যেই ২০১৬ সালের পর যেকোনো পূর্ণ বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা, নতুন করে তাপপ্রবাহ শুরু হওয়ায় এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচ