রাশিয়ার রাতভর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ ও আশপাশের অঞ্চলে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং ২৭ জন আহত হয়েছেন। হামলায় গুদামঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার মধ্যরাতের পর শুরু হওয়া এ হামলায় তিন মিলিয়ন জনসংখ্যার কিয়েভে এক ঘণ্টারও বেশি সময় বিমান হামলার সতর্কতা জারি ছিল।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের অন্তত সাতটি স্থানে হামলা হয়েছে। রাজধানীতে একজন নিহত এবং ২৪ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজন অ্যাম্বুলেন্সচালক রয়েছেন। চারজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের কেন্দ্রের কাছে একটি গুদামঘর ধ্বংস হয়ে গেছে। ধ্বংসস্তূপ থেকে দুজনকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও সেখানে আরও মানুষ আটকে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হামলায় শহরের বিভিন্ন গুদাম ও সংরক্ষণাগারে আগুন লাগে। শহরের উপকণ্ঠে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাও ঘটে। এছাড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ আবাসিক ভবনের পাশে পড়ে। হামলার ফলে অ্যামোনিয়া গ্যাসও ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে জরুরি সেবা বিভাগ।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় ইউক্রেনের সামরিক কাজে ব্যবহৃত লজিস্টিক হাব ও সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনীর দাবি, রাতভর রাশিয়া চারটি জিরকন, ২৪টি ইস্কান্দার-এম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১৫টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ৯৮টি ড্রোন ভূপাতিত বা নিষ্ক্রিয় করলেও কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি।
এ পরিস্থিতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম যুক্তরাষ্ট্রের প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সর্বাধুনিক **পিএসি-৩** ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রের জন্য ওয়াশিংটনের কাছে আবারও অনুরোধ জানিয়েছে কিয়েভ।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে বলে রয়টার্সকে চারটি সূত্র জানিয়েছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি এ ধরনের চুক্তি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছিলেন।
এদিকে পাল্টা হামলায় ইউক্রেন রাশিয়ার অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজ-এর আরেকটি লজিস্টিক কেন্দ্রেও আঘাত হেনেছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
রয়টার্স জানায়, যুদ্ধক্ষেত্রের সব দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। রাশিয়া ও ইউক্রেন—উভয় দেশই বেসামরিক স্থাপনায় ইচ্ছাকৃত হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
সময়ের আলো/কেএইচ