ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সমালোচনায় আরও সরব হয়েছেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। তিনি নেতানিয়াহুকে ‘যুদ্ধাপরাধী’ এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর ‘ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি’ বলে মন্তব্য করেছেন। তবে একই সঙ্গে মামদানি স্বীকার করেছেন, নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করার আইনি ক্ষমতা তাঁর নেই।
সোমবার সিএনএনের সাংবাদিক ক্রিশ্চিয়ান আমানপুরকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মামদানি বলেন, ‘বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিষয়ে আমি তাঁকে যেভাবে দেখি, সেভাবেই বর্ণনা করেছি—একজন যুদ্ধাপরাধী এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ভয়াবহ গণহত্যার স্থপতি।’
২০২৪ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) নেতানিয়াহু ও ইসরায়েলের আরও কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর সংঘটিত যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে তাঁদের বিরুদ্ধে এই পরোয়ানা জারি করা হয়। তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল।
নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচনের প্রচারের সময় মামদানি বলেছিলেন, নেতানিয়াহু শহরে এলে তাঁকে গ্রেপ্তার করতে নিউইয়র্ক পুলিশ বিভাগকে নির্দেশ দেবেন। পরে অবশ্য সেই অবস্থান থেকে সরে এসে তিনি বলেন, আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আইনি ক্ষমতা তাঁর নেই।
মামদানি বলেন, আইসিসির পরোয়ানাকে সম্মান করা উচিত। তাঁর ভাষায়, রাজনীতিতে মানুষের আস্থা এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করাই গুরুত্বপূর্ণ।
এ সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। এ সময় মামদানি দ্য হেগের মেয়র ইয়ান ফান জানেনের সঙ্গে বৈঠকের কথা জানান। তাঁদের আলোচনায় আইনের শাসনের গুরুত্ব উঠে আসে।
মামদানি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত যদি কাউকে আইনের লঙ্ঘনের জন্য গ্রেপ্তারের যোগ্য মনে করে, তাহলে কাউকেই সেই আইনের ঊর্ধ্বে রাখা উচিত নয়। সবারই জবাবদিহির আওতায় থাকা উচিত।
আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে নেতানিয়াহুর। তাঁর নিউইয়র্ক সফরের প্রতিবাদে কয়েকটি বিক্ষোভ কর্মসূচিরও আয়োজন করা হয়েছে। তবে মামদানি জানিয়েছেন, তিনি এসব বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন না।
সময়ের আলো/কেএইচ