ট্রাম্পের ব্যবসা-প্রশাসন ঘিরে তদন্তের প্রস্তুতি ডেমোক্র্যাটদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও তার পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিস্তৃত

2026-11-06T23:19:45+00:00
2026-11-06T23:19:45+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ট্রাম্পের ব্যবসা-প্রশাসন ঘিরে তদন্তের প্রস্তুতি ডেমোক্র্যাটদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম 
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পাওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ও তার পরিবারের ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে বিস্তৃত তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাট পার্টি। ট্রাম্প পরিবারের সম্পদ ও ব্যবসায়িক চুক্তি, ক্রিপ্টোকারেন্সি সংক্রান্ত লেনদেন, সরকারি প্রকল্পে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা এবং প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখতে চায় দলটি।

এ ছাড়া জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত তদন্ত, অভিবাসন অভিযান এবং সরকারি দক্ষতা বিভাগের (ডোজ) কার্যক্রমও নজরদারির আওতায় আসতে পারে। নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে এসব তদন্ত ট্রাম্পের মেয়াদের বাকি দুই বছরে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির অন্যতম বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে।

৩ নভেম্বরের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট— দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে ডেমোক্র্যাটরা। ফলে আগামী জানুয়ারিতে নতুন কংগ্রেসের অধিবেশন শুরু হলে কমিটিগুলোর নেতৃত্ব ও তদন্ত পরিচালনার ক্ষমতা তাদের হাতে যাবে। প্রতিনিধি পরিষদের নজরদারি ও জবাবদিহি সংক্রান্ত কমিটির নেতৃত্বে আসার কথা রবার্ট গার্সিয়ার। নির্বাচনের ফল স্পষ্ট হতে শুরু করতেই তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে লেখেন, ‘আইনজীবী নিয়োগ করুন।’ সিনেটের অর্থবিষয়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান রন ওয়াইডেনও ‘সমন জারি’র ইঙ্গিত দিয়েছেন। ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ডেলিয়া রামিরেজ প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তাকে তাদের সময়সূচি ফাঁকা রাখার বার্তা দিয়েছেন। এসব বক্তব্যে নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতার তদন্ত পরিকল্পনার ইঙ্গিত মিলেছে।

প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটদের নজরদারির অন্যতম লক্ষ্য হতে পারে ট্রাম্প ও তার পরিবারের সম্পদ বৃদ্ধির বিষয়টি। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর পরিবারের ব্যবসায়িক স্বার্থ কীভাবে বিস্তৃত হয়েছে, সরকারি সিদ্ধান্তের সঙ্গে সেসব ব্যবসার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে চান আইনপ্রণেতারা। সম্ভাব্য তদন্তের তালিকায় রয়েছে পরিবারের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্যোগ, রিয়েল এস্টেট প্রকল্প, খনিজ সম্পদ সংক্রান্ত চুক্তি এবং হোয়াইট হাউসের বলরুমসহ বিভিন্ন নির্মাণকাজ। এসব ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ট্রাম্পের দুই ছেলে, প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও রিপাবলিকানদের বড় অর্থদাতা ইলন মাস্ক, সরকারি ঠিকাদার এবং দলটির কয়েকজন দাতার ভূমিকাও তদন্তের আওতায় আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম প্রমাণিত হয়েছে— এমন নয়, তদন্তের পরিকল্পনা এখনও প্রক্রিয়াধীন।

এপস্টেইন সংক্রান্ত নথি ও তদন্তে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলতে চান ডেমোক্র্যাটরা। যৌন অপরাধে দণ্ডিত প্রয়াত জেফরি এপস্টেইনের আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সতর্কসংকেত থাকা সত্ত্বেও ব্যাংকগুলো কী ব্যবস্থা নিয়েছিল, তা খতিয়ে দেখতে পারে সিনেটের অর্থবিষয়ক কমিটি। সিনেটে ডেমোক্র্যাটরা জেপি মরগান চেজের সঙ্গে এপস্টেইনের ব্যাংকিং সম্পর্ক তদন্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ব্যাংকটির এক মুখপাত্র বলেছেন, এপস্টেইনের সঙ্গে সম্পর্কের জন্য তারা দুঃখিত, তবে তার অপরাধে সহায়তা করেনি। এদিকে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগকারী সংস্থা আইসিইর অভিযান, সরকারি দক্ষতা বিভাগ ডোজের কর্মকাণ্ড এবং ট্রাম্প পরিবারের সঙ্গে যুক্ত ক্রিপ্টো উদ্যোগের বিষয়েও শুনানি হতে পারে।

শুধু ব্যক্তি বা পরিবারের ব্যবসা নয়, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বড় করপোরেট প্রতিষ্ঠানের সম্পর্কও তদন্তের তালিকায় রয়েছে। সিনেটের অর্থবিষয়ক কমিটির সম্ভাব্য প্রধান রন ওয়াইডেন ওষুধের দাম নির্ধারণ নিয়ে প্রশাসনের সঙ্গে ওষুধ কোম্পানিগুলোর চুক্তি খতিয়ে দেখতে চান। পাশাপাশি ব্যক্তিমালিকানাধীন বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডে জীবনযাত্রার ব্যয়ের ওপর প্রভাব, ডেটা সেন্টারের কর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ঝুঁকি নিয়েও তদন্তের আগ্রহ রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের। 

অর্থাৎ তদন্তের পরিধি ট্রাম্প পরিবার ছাড়িয়ে প্রশাসন, ব্যাংক, ওষুধ কোম্পানি ও প্রযুক্তি খাত পর্যন্ত বিস্তৃত হতে পারে। তবে ডেমোক্র্যাটদের এই পরিকল্পনার জবাবে হোয়াইট হাউস অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মুখপাত্র লরেন বিস বলেছেন, ডেমোক্র্যাটরা যদি ভিত্তিহীন তদন্ত ও উগ্র বামপন্থি নীতি বেছে নেয়, তবে তারা মার্কিন জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধেই কাজ করবে। অন্য এক হোয়াইট হাউস কর্মকর্তা বলেছেন, ফেডারেল সরকারের ক্ষমতা এখনও রিপাবলিকানদের হাতেই রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা আপাতত সরাসরি অভিশংসনের পথে না গিয়ে তদন্ত ও শুনানিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। তবে প্রতিনিধি পরিষদের সম্ভাব্য স্পিকার হাকিম জেফরিস ট্রাম্পকে তৃতীয়বার অভিশংসনের উদ্যোগের সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেননি।


নির্বাচনে ভোটারদের অসন্তোষের পেছনে দুর্নীতির অভিযোগ যেমন ভূমিকা রেখেছে, তেমনি অর্থনৈতিক চাপও ছিল বড় বিষয়। এক লাখের বেশি ভোটারের ওপর করা এক জরিপে প্রায় ৪০ শতাংশ অর্থনীতিকে দেশের প্রধান সমস্যা বলেছেন; প্রায় ৩০ শতাংশের কাছে গণতন্ত্রের অবস্থা ছিল সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় অর্ধেক ভোটার বলেছেন, কংগ্রেস নির্বাচনে সরকারি দুর্নীতি তাদের সিদ্ধান্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল। আরেক জরিপে ৪৮ শতাংশ নিবন্ধিত ভোটার জীবনযাত্রার ব্যয়কে ভোটের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলেছেন। ফলে তদন্তে বেশি মনোযোগ দিতে গিয়ে নিত্যপণ্যের দাম, জ্বালানি ব্যয় ও স্বাস্থ্যসেবার মতো বিষয়গুলো থেকে সরে গেলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

নির্বাচনের পর রিপাবলিকান শিবিরেও পরাজয়ের কারণ নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ইরান যুদ্ধকে পরাজয়ের কারণ বলেছেন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়ে ভোটারদের অসন্তোষ তৈরি হয়েছে বলে তার বক্তব্য। তবে ট্রাম্প যুদ্ধকে প্রয়োজনীয় বলে দাবি করেছেন এবং বলেছেন, একই পরিস্থিতি তৈরি হলেও তিনি ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিতেন না। এ মতপার্থক্য রিপাবলিকানদের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রশ্নকেও সামনে এনেছে। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেও প্রগতিশীল ও মধ্যপন্থি অংশের মধ্যে দলের ভবিষ্যৎ পথ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। দুই ধারার প্রার্থীরাই নির্বাচনে জয়ী হওয়ায় ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন সামনে রেখে সেই বিতর্ক আরও জোরালো হতে পারে।

কংগ্রেসের দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার সীমা রয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন, শুনানি, নথি তলব এবং প্রশাসনের কর্মকাণ্ডে নজরদারির সুযোগ বাড়বে; তবে প্রেসিডেন্ট হিসেবে ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে। ফলে বড় আইন পাসে বাধা আসতে পারে। নতুন সংখ্যাগরিষ্ঠতার সামনে তাই দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ— প্রশাসনের জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং ভোটারদের দৈনন্দিন অর্থনৈতিক উদ্বেগের বাস্তব সমাধান দেওয়া। নির্বাচনি জয়কে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমর্থনে রূপ দিতে পারবে কি না, তার অনেকটাই নির্ভর করবে এই দুই কাজের ভারসাম্য রাখার ওপর।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 

  বিষয়:   ট্রাম্পের ব্যবসা-প্রশাসন ঘিরে তদন্তের প্রস্তুতি ডেমোক্র্যাটদের 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: