ছবি : সংগৃহীতইরানে যুদ্ধের পরিধি আরও বাড়ানো হবে কি না, সে বিষয়ে শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যাতে আর কখনো পুনরুজ্জীবিত হতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে দেশটির বাকি অংশও ‘ধ্বংস করে দিতে হতে পারে’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাতে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন ট্রাম্প। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবে। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি যেন আর কখনো ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হয়, সেটি নিশ্চিত করাই এর লক্ষ্য।
তবে ইরানের বাকি অংশ ধ্বংস করতে চান না বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি বরং দেশটির বাকি অংশ ধ্বংস করতে চাই না। তবে হয়তো আমাকে তা করতে হতে পারে।’ এ বিষয়ে ‘শিগগিরই জানতে পারবেন’ বলেও জানান তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, ইরানের পক্ষে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে ২৫ থেকে ৩০ বছর সময় লাগতে পারে। একই সঙ্গে সংঘাতে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের ১৮ জন সেনাসদস্য নিহত হওয়ার কথাও স্বীকার করেন তিনি।
অ্যাক্সিওসকে দুই মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান নিয়ে এটিই ছিল ট্রাম্পের প্রথম বৈঠক। ইরানে নতুন করে হামলা, অর্থনৈতিক চাপ অব্যাহত রাখা কিংবা সমঝোতায় পৌঁছানো—এই তিনটি পথ বিবেচনা করছেন তিনি।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের জয় কি যুদ্ধের গতিপথ বদলাবে?
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটদের সাফল্যের পর ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ কতটা থাকবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ডেমোক্র্যাটদের জয় কংগ্রেসে প্রশাসনের ওপর নজরদারি বাড়াতে পারে। তবে কিছু বিশ্লেষকের ধারণা, নতুন কংগ্রেস জানুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার আগেই ট্রাম্প সামরিক অভিযান আরও জোরদার করতে পারেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক অতিথি বিশ্লেষক ধারণা দিয়েছেন, নতুন কংগ্রেস দায়িত্ব নেওয়ার আগের প্রায় দুই মাসের মধ্যে ট্রাম্প হামলা চালাতে পারেন। তবে অন্য বিশ্লেষকেরা সতর্ক করে বলেছেন, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন এলেই যুদ্ধ থেমে যাবে—এমন নিশ্চয়তা নেই।
ট্রাম্পের বক্তব্যে পরস্পরবিরোধী ইঙ্গিত
ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে তিনি বলেছিলেন, আপাতত বড় ধরনের নতুন হামলার পরিকল্পনা নেই। তবে প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র ‘সম্পূর্ণ প্রস্তুত’ রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন।
পলিটিকোকে ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শুরুর সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে তিনি নির্বাচনের ফলাফলের পেছনে যুদ্ধেরও ভূমিকা ছিল বলে উল্লেখ করেন। অন্যদিকে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে যুদ্ধ নয়, বরং জ্বালানির দামকেই নির্বাচনের ফলাফলের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।
সময়ের আলো/জেডি