ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত নেতানিয়াহুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইসরাইলের ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে আরও চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা

2026-11-06T23:16:32+00:00
2026-11-06T23:16:32+00:00
 
  শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬,
২২ কার্তিক ১৪৩৩
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ক্ষমতায় ফেরা অনিশ্চিত নেতানিয়াহুর
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ নভেম্বর, ২০২৬, ১১:১৬ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
ইসরাইলের ক্ষমতা ধরে রাখার লড়াইয়ে আরও চাপে পড়েছেন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। গত ২৭ অক্টোবরের নির্বাচনে তার নেতৃত্বাধীন জোট পার্লামেন্টে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোর পর এবার সরকার গঠনের দায়িত্ব পাওয়ার দৌড়েও পিছিয়ে পড়েছেন তিনি। বিরোধী নেতা ও সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকটের পক্ষে সরকার গঠনের সুপারিশ করেছেন পার্লামেন্টের ১২০ সদস্যের মধ্যে ৬৭ জন আইনপ্রণেতা। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর পক্ষে সুপারিশ করেছেন ৪৬ জন। 

আগামীকাল রোববার প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ জানাবেন, কাকে নতুন সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়া হবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সুপারিশ পেলেও আইজেনকটের সরকার গঠনের পথ এখনও নিশ্চিত নয়।

নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল অনুযায়ী নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি একক দল হিসেবে সর্বোচ্চ ২৭টি আসন পেয়েছে। তবে তার নেতৃত্বাধীন ডানপন্থি ও ধর্মীয় দলগুলোর জোটের আসন দাঁড়িয়েছে ৫৩টিতে। ইসরাইলের ১২০ আসনের নেসেটে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। অন্যদিকে আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন চারটি ইহুদি দলের বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন। বাকি ১৯টি আসন পেয়েছে আরব নেতৃত্বাধীন দুটি দল— জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। এ পরিস্থিতিতে আরব দলগুলোর সমর্থন সরকার গঠনের সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রেসিডেন্ট হারজগের সঙ্গে দলগুলোর ধারাবাহিক আলোচনায় জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম— দুই দলই আইজেনকটকে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেওয়ার সুপারিশ করেছে। তবে তাদের সমর্থন পেলেও আরব দলগুলোকে নিয়ে সরকার গঠনের বিষয়ে আইজেনকটের অবস্থান স্পষ্ট নয়। তিনি আগে থেকেই তাদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক জোট গড়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে আসছেন। জয়েন্ট লিস্টের নেতারা বাইরে থেকে বিরোধী সরকারকে সমর্থন দেওয়ার কথা ভাবছেন। অন্যদিকে রা’আম নতুন সরকারে যোগ দেওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছে। ফলে তাদের সুপারিশ পাওয়া এবং সরকারে তাদের অংশগ্রহণ— দুটি বিষয়ই আলাদা করে দেখছে রাজনৈতিক মহল।

আরব দলগুলোর সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার ক্ষেত্রেও শর্ত রয়েছে। আইজেনকটের পক্ষ থেকে ইসরাইলকে ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি, বাধ্যতামূলক জাতীয় সেবা এবং হামাসকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে নিন্দা জানানোর মতো শর্তের কথা বলা হয়েছে। এসব বিষয়ে আরব দলগুলোর সঙ্গে বিরোধী জোটের মতপার্থক্য রয়েছে। ফলে ৬৭ জন আইনপ্রণেতার সুপারিশকে সরাসরি সরকার গঠনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এদিকে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের মিত্র অতি-ধর্মীয় দল ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম কোনো প্রার্থীর পক্ষেই সুপারিশ করেনি। সেনাবাহিনীতে অতি-ধর্মীয় ইহুদি তরুণদের বাধ্যতামূলক সেবার বিষয়ে নেতানিয়াহুর জোটের সঙ্গে দলটির বিরোধ রয়েছে। এ কারণে তারা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় কাউকেই সমর্থন দেয়নি। দলটির সাতটি আসন সরকার গঠনের হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের অবস্থান পরিবর্তন হলে দুপক্ষের যেকোনো একটির জন্য নতুন সমীকরণ তৈরি হতে পারে। ফলে নেতানিয়াহুর দীর্ঘদিনের জোটসঙ্গীদের মধ্যেও ঐক্য ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

নির্বাচনের ফল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন নেতানিয়াহু। ভোটে কারচুপির সম্ভাবনা নিয়ে নির্বাচন কর্মকর্তাদের একটি তদন্তের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলোর বিরুদ্ধে ভোট চুরির অভিযোগ তুলেছেন। তবে ইসরাইলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটি জানিয়েছে, নির্বাচনের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষুণ্ন হওয়ার মতো কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি। কমিটির প্রধান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নোয়াম সোলবার্গ নির্বাচিত প্রতিনিধিদের জনগণের আস্থা রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। তার মতে, গণতন্ত্রের অন্যতম ভিত্তি হলো ক্ষমতার শান্তিপূর্ণ হস্তান্তর। অন্যদিকে নেতানিয়াহুর ডানপন্থি মিত্র ও জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভির আরব দলগুলোর নেতাদের গ্রেফতার ও জিজ্ঞাসাবাদের দাবি জানিয়েছেন। এসব বক্তব্য ইসরাইলের রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়িয়েছে।

নির্বাচনে আরব নাগরিকদের অংশগ্রহণও এবার বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। ইসরাইলের জনসংখ্যার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ আরব নাগরিক। এবারের নির্বাচনে তাদের ভোট দেওয়ার হার আগের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি বেড়ে প্রায় ৮০ শতাংশে পৌঁছেছে। স্থানীয় অপরাধ, বৈষম্য ও রাজনৈতিকভাবে উপেক্ষিত হওয়ার অভিযোগের মধ্যে পরিবর্তনের প্রত্যাশা তাদের ভোটে প্রভাব ফেলেছে বলে আরব নেতারা জানিয়েছেন। বিরোধী শিবিরের পক্ষে তাদের এই সমর্থন সরকার গঠনের আলোচনায় নতুন গুরুত্ব তৈরি করেছে।


প্রেসিডেন্ট হারজগ রোববার সরকার গঠনের দায়িত্ব কাকে দেবেন, তা ঘোষণা করবেন। দায়িত্ব পাওয়া প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন। প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো যাবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ আইনপ্রণেতার সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে অন্য কাউকে সুযোগ দেওয়া হতে পারে। শেষ পর্যন্ত কেউ সরকার গঠনে ব্যর্থ হলে নতুন নির্বাচনের পথও খুলে যাবে। তত দিন নেতানিয়াহুই তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নেতানিয়াহুর সামনে তাই এখন ক্ষমতা ধরে রাখার পাশাপাশি নিজের জোটের ঐক্য বজায় রাখার চ্যালেঞ্জ। অন্যদিকে বিরোধী জোটের জন্যও আরব দলগুলোর সমর্থনকে কার্যকর রাজনৈতিক সমঝোতায় রূপ দেওয়া সহজ হবে না। গাজা যুদ্ধ, জাতীয় নিরাপত্তা, সামরিক সেবা এবং পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলগুলোর অবস্থান ভিন্ন। ফলে প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে পরবর্তী সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও ইসরাইলের রাজনৈতিক অচলাবস্থা কাটবে কি না, তা নির্ভর করছে আগামী দিনগুলোর সমঝোতার ওপর।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 
  বিষয়:   ক্ষমতা  ফেরা  অনিশ্চিত  নেতানিয়াহু 


Advertisement
Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: