ভারতে বিদেশি অনুদান নিয়ন্ত্রণ আইন (এফসিআরএ) সংশোধনের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের এক কংগ্রেসম্যান। তার দাবি, প্রস্তাবিত সংশোধনী পাস হলে ভারত সরকার গির্জা ও ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ক্ষমতা পাবে, যা তিনি ‘খ্রিস্টানদের ওপর স্পষ্ট আক্রমণ’ বলে মন্তব্য করেছেন। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, এ বিল বর্তমান রূপে পাস হলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির ওয়েস্ট ভার্জিনিয়ার কংগ্রেসম্যান রাইলি মুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, খ্রিস্টধর্মের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও ভারতীয় পার্লামেন্ট এমন একটি সংশোধনী বিবেচনা করছে, যা সরকারকে গির্জা ও ধর্মীয় দাতব্য প্রতিষ্ঠানের বিদেশি অনুদানের ব্যবস্থাপনা নিজেদের হাতে নেওয়ার সুযোগ করে দেবে।
তিনি লেখেন, ‘এটি খ্রিস্টানদের বিরুদ্ধে একটি স্পষ্ট আক্রমণ। বিলটি এভাবেই পাস হলে ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটি বড় উদ্বেগের বিষয় হবে।’
প্রস্তাবিত ফরেন কন্ট্রিবিউশন (রেগুলেশন) অ্যামেন্ডমেন্ট বিল-২০২৬ অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানের এফসিআরএ নিবন্ধন বাতিল, সমর্পণ বা নবায়ন না হলে সরকার একটি ‘ডেজিগনেটেড অথরিটি’ গঠন করতে পারবে। এই কর্তৃপক্ষ বিদেশি অনুদান এবং সেই অর্থে গড়ে ওঠা সম্পদের ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব নেবে।
তবে বিলে উল্লেখ রয়েছে, কোনো সম্পদ যদি উপাসনালয় হয়, তাহলে তার ধর্মীয় চরিত্র অক্ষুণ্ন রাখতে হবে। এ ছাড়া আইন লঙ্ঘনের সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর কারাদণ্ড থেকে কমিয়ে এক বছর করার প্রস্তাবও রাখা হয়েছে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকার আগামী সপ্তাহে লোকসভায় বিলটি উত্থাপন করতে পারে।
ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ১৩ হাজার ৫২০টি প্রতিষ্ঠান মোট ৫৫ হাজার ৭৪১ কোটি রুপি বিদেশি অনুদান পেয়েছে। ২০২৬ সালের ১৫ জুলাই পর্যন্ত দেশে সক্রিয় এফসিআরএ নিবন্ধনের সংখ্যা ১৪ হাজার ৪৪৯টি। এ ছাড়া ২২ হাজার ৪৯৮টি নিবন্ধন বাতিল এবং ১৫ হাজার ২১২টি নিবন্ধনের মেয়াদ শেষ হয়েছে।
মার্কিন কংগ্রেসম্যানের মন্তব্যের সমালোচনা করেছেন ভারতের বিরোধী দলের নেতারাও। যদিও তাদের অনেকেই এফসিআরএ সংশোধনী বিলেরও বিরোধিতা করছেন।
রেভল্যুশনারি সোশ্যালিস্ট পার্টির (আরএসপি) সাংসদ এন কে প্রেমচন্দ্রন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো আইনপ্রণেতার এ ধরনের মন্তব্য সম্পূর্ণ অনভিপ্রেত। ভারতের আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের মন্তব্য করার অধিকার নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা বিলটির বিরোধিতা করি, কিন্তু সে কারণে বিদেশি হস্তক্ষেপকে সমর্থন করি না। এটি ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়।’
সিপিআই(এম) নেতা জন ব্রিটাসও একই ধরনের প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের আইনপ্রণেতাদের পরামর্শের প্রয়োজন নেই। বিলটির বিরোধিতা করলেও এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ভারতের সরকার ও পার্লামেন্টই।
সময়ের আলো/কেএইচ