বেরোবিতে ২ দিন সংঘর্ষের পর একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির

বেরোবি প্রতিনিধি

সারাদেশ

টানা দুই দিনের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উত্তেজনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দেখা মিলল এক ভিন্ন চিত্রের। জুলাই

2026-08-05T17:20:18+00:00
2026-08-05T17:20:18+00:00
 
  বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬,
২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ৫ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
বেরোবিতে ২ দিন সংঘর্ষের পর একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির
বেরোবি প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ৫ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২০ পিএম 
বেরোবিতে ২ দিন সংঘর্ষের পর একই মঞ্চে ছাত্রদল-শিবির। ছবি : সংগৃহীত
টানা দুই দিনের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উত্তেজনার পর রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) দেখা মিলল এক ভিন্ন চিত্রের। জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আয়োজিত আনন্দ শোভাযাত্রা ও বৃক্ষরোপণসহ নানা কর্মসূচিতে একই মঞ্চে অংশ নেন উপাচার্য, ছাত্রদল এবং ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা।

বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল থেকেই পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিভিন্ন আয়োজনের সূচনা হয়। 

এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

এ সময় বৃষ্টি উপেক্ষা করেই ছাতা হাতে একটি আনন্দ শোভাযাত্রা ক্যাম্পাসের প্রধান সড়ক ও আবু সাঈদ চত্বর প্রদক্ষিণ করে। পরে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে ক্যাম্পাসে বৃক্ষরোপণ করা হয়।

এর আগে গত সোমবার (৩ আগস্ট) জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বেরোবি শিবির ‘জুলুমের বিরুদ্ধে জুলাই’ শীর্ষক একটি প্রোগ্রাম আয়োজন করে। সেখানে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দণ্ডিত নেতার একটি ছবি প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যা থেকে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন গুরুতরসহ অন্তত ২০ জন আহত হন এবং ক্যাম্পাসে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে।

এই সংঘর্ষের পর ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একই স্থানে পৃথক বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিলে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থান নেয়। এমনকি বেরোবি প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাজহাট থানায় ১৪৪ ধারা জারির আবেদনও করা হয়েছিল।


এমন উত্তপ্ত পরিস্থিতির অবসান ঘটিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের কর্মসূচিতে দুই ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের একত্রে দেখা যাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, ক্যাম্পাসে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে, তবে তা যেন কোনোভাবেই সহিংসতায় রূপ না নেয়।

বেরোবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. আব্দুর রাকিব মুরাদ বলেন, ছাত্রদল কোনো প্রোগ্রাম করেছে আর আমরা কখনো বাধা দিয়েছি, এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমরা আগেও যেমন বাধা দেইনি, এখনো দেই না। আমরা চাই ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় থাকুক। আমরা আশা করি, তারা দেয়ালে ‘শিবিরমুক্ত ক্যাম্পাস’ কথাটি লিখেছে, তা দুপুরের মধ্যেই মুছে দেবে।

ছাত্রদল সভাপতি ইয়ামিন ইসলাম বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে সব ধর্ম-বর্ণ ও শ্রেণির মানুষের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় আমরা ত্রাসের রাজনীতি থেকে মুক্তি পেয়ে একটি সুন্দর বাংলাদেশ পেয়েছি। জুলাই যেমন আমাদের ঐক্যবদ্ধ করেছিল, সেই ঐক্যবদ্ধ থেকেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে। কোনোভাবেই মতবিরোধ বা দ্বন্দ্ব রাখা যাবে না, তাহলে ফ্যাসিবাদীরা আবার ফিরে আসবে। আমাদের বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতা পরিহার করতে হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকাত আলী বলেন, আজ আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দের দিন। ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলেই দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। আমরা চাই, দেশে আর কখনো কোনো স্বৈরাচার যেন ফিরে আসতে না পারে। আজকের কর্মসূচিতে ছাত্রদল, ছাত্রশিবিরসহ সর্বস্তরের শিক্ষার্থীরা একসঙ্গে অংশ নিয়েছে। এটিই প্রমাণ করে যে, বিশ্ববিদ্যালয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা সম্ভব।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   বেরোবি  সংঘর্ষ  মঞ্চ  ছাত্রদল  শিবির  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: