কুড়িগ্রামে স্টার টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি মোহাম্মদ জুবাইরের ওপর হামলা চালিয়েছেন বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে উলিপুর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠানস্থল থেকে তাকে বের করে মারধর করা হয়।
এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ সদস্যরা সাংবাদিক জুবাইরকে উদ্ধার করে প্রথমে উলিপুর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।
হামলার শিকার সাংবাদিক জুবাইর অভিযোগ করেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের অনুষ্ঠান কাভার করার জন্য পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে তিনি উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে গিয়েছিলেন। সেখানে হঠাৎ করে বিএনপি ও ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাকে টেনেহিঁচড়ে অডিটোরিয়ামের বাইরে নিয়ে আসেন এবং একটি মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন। তিনি অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করেন তারা। বিশেষ করে তার মাথা লক্ষ্য করে বেদম প্রহার করা হয়।
ঘটনার সময় অডিটোরিয়ামের ভেতরে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মাহবুবুল আলম সালেহী, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হায়দার আলী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ওবায়দুর রহমান বুলবুল ও যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুজ্জামান বাচ্চু, পৌর বিএনপির আহ্বায়ক নূর মোহাম্মদ এবং সদস্য সচিব সোলায়মান সরকারসহ বিএনপি ও ছাত্রদলের অনেক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
হামলার বিবরণ দিয়ে সাংবাদিক জুবাইর বলেন, ভিতরে ওসির বক্তব্য চলছিল এবং আমি অনুষ্ঠানটির ভিডিও ও ছবি তুলছিলাম। এমন সময় শামীম নামের এক দীর্ঘকায় বিএনপি কর্মী আমাকে টেনে বাইরে নিয়ে যান এবং মোটরসাইকেলে উঠতে বলেন। কোনো কারণ ছাড়াই তারা আমাকে পেটাতে শুরু করেন, বিশেষ করে আমার মাথা লক্ষ্য করে আঘাত করা হয়। পরে পুলিশ আমাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
তিনি আরও বলেন, কী কারণে আমার ওপর এই হামলা হলো, তা আমি জানি না। আমিও জুলাই আন্দোলনের পক্ষে ছিলাম, সাংবাদিকতা আমার পেশা। ধারণা করছি, আমার পেশাগত সংবাদ পরিবেশন বা লেখালেখিতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা এই হামলা চালিয়েছেন। হামলাকারী সবাইকে চিনতে না পারলেও তারা সবাই বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মী।
এ বিষয়ে অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব হায়দার আলী বলেন, আমরা সবাই অডিটোরিয়ামের ভেতরে ছিলাম। হঠাৎ গণ্ডগোলের শব্দ শুনে ওসিসহ বাইরে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করি। এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা। যারা এর সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উলিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সাংবাদিকের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ তাকে দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে। আহত সাংবাদিক বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তিনি লিখিত অভিযোগ দিলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত, মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সাংবাদিক জুবাইরকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তার সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দিয়েছেন।
সময়ের আলো/জোই