লোহাগাড়ায় অপরাধের দাপট, আতঙ্কে মানুষ

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে আতঙ্ক। কোথাও বসতঘরের দরজা ভেঙে চুরি, কোথাও অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতি।

2026-09-24T23:17:42+00:00
2026-09-24T23:17:42+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
লোহাগাড়ায় অপরাধের দাপট, আতঙ্কে মানুষ
লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:১৭ পিএম 
লোহাগড়া থানা। ছবি : সময়ের আলো
রাত যত গভীর হয়, ততই বাড়ে আতঙ্ক। কোথাও বসতঘরের দরজা ভেঙে চুরি, কোথাও অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে ডাকাতি। কখনো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কখনো যানবাহন এমনকি বাদ যাচ্ছে না ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে কিশোর গ্যাংয়ের হামলা ও ছুরিকাঘাতের অভিযোগ।

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া একাধিক চুরি, ডাকাতি ও হামলার ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে। গত জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে এসব ঘটনার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের দাবি, শুধু গত এক মাসেই উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৩০ থেকে ৪০টি সংঘবদ্ধ চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। যদিও এসব ঘটনার পূর্ণাঙ্গ সরকারি পরিসংখ্যান পাওয়া যায়নি।

ভোরে বাজারে হামলা, ভাঙচুর সিসি ক্যামেরা
গত ২ সেপ্টেম্বর ভোর সাড়ে ৪টার দিকে বড়হাতিয়া ইউনিয়নের মনুফকিরহাটে একদল দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রথমে বাজারের ক্লোজড সার্কিট (সিসি) ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়। পরে বাজারের পাহারাদারকে মারধর করে কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হয়। এ সময় নগদ টাকা লুটের অভিযোগও রয়েছে। পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।

ঘটনার পর স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে সিসি ক্যামেরা থাকা সত্ত্বেও কীভাবে একদল দুর্বৃত্ত বাজারে ঢুকে হামলা ও লুটপাট চালাল? ফুটেজে তাদের দেখা যাওয়ার পরও তাদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।

দুই সপ্তাহের ব্যবধানে অস্ত্রের মুখে পাঁচ পরিবারের সদস্য
মনুফকিরহাটের ঘটনার প্রায় দুই সপ্তাহ পর চুনতি ইউনিয়নে ঘটে আরও একটি ডাকাতির ঘটনা। গত ১৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে চুনতি ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের রোসাইঙ্গা ঘোনা হাকিমিয়া পাড়ায় পাঁচ ভাইয়ের পাশাপাশি বসতঘরে মুখোশধারী একদল দুর্বৃত্ত হানা দেয় বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

তাদের ভাষ্য, ৮ থেকে ১২ জনের ওই দল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে এবং মারধর করে। পরে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোন নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগীদের দাবি, পাঁচ ভাইয়ের কাছ থেকে মোট ২ লাখ ১১ হাজার ৫০০ টাকা, দুই ভরি স্বর্ণালংকার ও আটটি মোবাইলফোন লুট করা হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। একই রাতে পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িতে সংঘবদ্ধভাবে ঢোকার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। তাদের প্রশ্ন, একটি গ্রামীণ এলাকায় এতসংখ্যক অস্ত্রধারী ব্যক্তি কীভাবে রাতের বেলায় একাধিক বাড়িতে ঢুকে দীর্ঘ সময় অবস্থান করল? এ বিষয়ে আগাম কোনো গোয়েন্দা তথ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।

একের পর এক বাড়িতে চুরির অভিযোগ
ডাকাতির পাশাপাশি গত কয়েক সপ্তাহে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় বসতঘর ও যানবাহনে চুরির অভিযোগও পাওয়া গেছে। কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আদারচর এলাকায় শিক্ষক আলিম সামাদের বসতঘরে চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানিয়েছেন। তার দাবি, নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে গেছে চোরেরা।

একই রাতে সদর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তালুকদার পাড়ায় প্রবাসী জসিম উদ্দিনের বাড়ি এবং বড়হাতিয়া ইউনিয়নের আমতলী বেপারীপাড়ায় মুজিবুর রহমানের সিএনজিচালিত অটোরিকশায় চুরির ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে ২৩ আগস্ট রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমির খান চৌধুরী পাড়ায় কফিল উদ্দিনের বসতঘর থেকে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। একই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকা আনোয়ার হোসেনের মোটরসাইকেলও চুরি হয়েছে বলে জানা গেছে।

ওই রাতেই আরও দুটি বাড়িতে চুরির চেষ্টা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানান। বাড়ির লোকজন জেগে উঠলে চোরেরা পালিয়ে যায়।
এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বাড়ি কয়েক ঘণ্টার জন্য ফাঁকা থাকলেও তা অপরাধীদের নজরে পড়ছে কি না।

অস্ত্রের মুখে জিম্মি, ১৮ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ
লোহাগাড়ার সাম্প্রতিক অপরাধের অভিযোগগুলোর মধ্যে আলোচিত একটি ঘটনা আমিরাবাদের ডাকাতি। গত ১৬ আগস্ট দিবাগত রাত অথবা ১৭ আগস্ট ভোরে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের মল্লিক ছোবহান তজু মুন্সির গ্যারেজ এলাকায় একটি বসতঘরে অস্ত্রের মুখে ডাকাতির অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, ডাকাতরা নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার ও মুঠোফোনসহ প্রায় ১৮ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয় ও জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে লুটপাটের অভিযোগ শুধু সম্পদের ক্ষতির বিষয় নয়; এর সঙ্গে মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার প্রশ্নও জড়িয়ে রয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।


মসজিদও বাদ যাচ্ছে না
চুরির ঘটনা থেকে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও রেহাই পাচ্ছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। গত ৩ আগস্ট রাতে সদর ইউনিয়নের দরবেশহাট এলাকার শাহী দরবেশিয়া জামে মসজিদের জানালার গ্রিল কেটে আইপিএসের ব্যাটারি ও দানবাক্স ভেঙে নগদ টাকা নিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

এর আগে ১৯ জুলাই রাতে চুনতি ইউনিয়নের সুফিনগর মসজিদে আর-রাহমা থেকে প্রায় ৪০০ গজ বৈদ্যুতিক তার কেটে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এ ছাড়া চলতি বছরের ২০ আগস্ট কলাউজান ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আদারচর এলাকায় মোহাম্মদ আলী হায়দারের ফাঁকা বসতঘরে চুরির অভিযোগ রয়েছে। ১৪ জুলাই রাতে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আমির খান চৌধুরী পাড়ায় প্রবাসী জুনু মিয়ার ফাঁকা বাড়িতেও চুরির অভিযোগ ওঠে। পরিবারের দাবি, সেখান থেকে প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার ও ২০ হাজার টাকা নিয়ে যায় চোরেরা।

চুরি-ডাকাতির পাশাপাশি কিশোর গ্যাংয়ের অভিযোগ
লোহাগাড়ার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি বিষয় কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতার অভিযোগ।

গত ৪ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে আমিরাবাদ ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের শহিদ মেজর নাজমুল হক সড়কে ইকরা আবদুল জব্বার উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষক নজরুল ইসলামের ওপর হামলা ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়। এতে তার শরীরের অন্তত পাঁচ স্থানে জখম হয়েছে বলে দাবি পরিবারের।
নজরুল ইসলামের ভাই নাজিম উদ্দীনের ভাষ্য, বিদ্যালয়ের একটি পূর্ববর্তী ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাদের পরিবারের সঙ্গে কয়েকজন কিশোরের বিরোধ তৈরি হয়েছিল। হামলার ঘটনায় তার পরিবার বাদী হয়ে থানায় মামলা করেছে। তবে একজন ছাড়া অন্য কাউকে এখনো গ্রেফতার করা হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
একই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামাল উদ্দিন সুমনের ভাষ্য, এর আগে ২২ আগস্ট একই বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে তুলে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। ওই ঘটনায় শিক্ষক নাজিম উদ্দীন থানায় যাওয়ায় তার ওপর ক্ষোভ তৈরি হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করেন।

প্রধান শিক্ষকের দাবি, কিশোর গ্যাংয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত ডেভিড জিহাদের নেতৃত্বে ওই দুটি ঘটনা ঘটেছে। তবে এ দাবির স্বাধীনভাবে যাচাই সম্ভব হয়নি।
অপরাধের পর ব্যবস্থা, নাকি আগে প্রতিরোধ?

সাম্প্রতিক ডাকাতির ঘটনাগুলোতে পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মামলা ও তদন্তের পাশাপাশি অপরাধ সংঘটনের আগেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব হচ্ছে কি না— এখন সেটিই স্থানীয়দের বড় প্রশ্ন।

একটি বাড়িতে ডাকাতির পর মামলা ও তদন্ত যেমন প্রয়োজন, তেমনি একই ধরনের ঘটনা যাতে পুনরায় না ঘটে, সে জন্য এলাকাভিত্তিক গোয়েন্দা নজরদারি, রাতের টহল, সন্দেহভাজনদের ওপর নজরদারি এবং স্থানীয় জনগণের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

স্বস্তি ফিরবে কবে? লোহাগাড়ার মানুষের প্রশ্ন এখন একটাই—নিজের ঘর, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা রাস্তায় তাঁরা কবে নিরাপদ বোধ করবেন?
স্থানীয়দের পক্ষ থেকে গত এক মাসে ৩০ থেকে ৪০টি সংঘবদ্ধ চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের যে দাবি করা হচ্ছে, তার পূর্ণাঙ্গ সরকারি যাচাই প্রয়োজন। পাশাপাশি সাম্প্রতিক ডাকাতি, চুরি ও কিশোর গ্যাং-সংশ্লিষ্ট অভিযোগগুলোর তদন্তের অগ্রগতিও পরিষ্কার হওয়া দরকার বলে মনে করছেন তাঁরা।

সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মতে, অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর পুলিশিং, নিয়মিত টহল, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা বাড়ানো জরুরি।

নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে লোহাগাড়া থানা-পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসন স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছে। সভায় ওয়ার্ড পর্যায়ে কমিটি গঠন, পুলিশি টহল জোরদার, স্থানীয়ভাবে নৈশপ্রহরী নিয়োগ এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসি ক্যামেরা স্থাপনসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাতকানিয়া সার্কেল) মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, “এত বড় একটি এলাকায় নিরাপত্তার জন্য মাত্র তিন থেকে চারটি টহল দল রয়েছে। এসব দল দিয়ে বাড়ি বাড়ি গিয়ে পাহারা দেওয়া সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে সিসিটিভি ফুটেজের অভাব এবং অনেক সিসিটিভি বা ডিভিআরের সময় ভুল থাকায় বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি হচ্ছে। এরপরও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

লোহাগাড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের উদ্বেগ কতটা কমবে, তা নির্ভর করছে এসব উদ্যোগ বাস্তবে কতটা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হয় এবং সাম্প্রতিক অপরাধের অভিযোগগুলোর তদন্ত কতটা এগোয় এখন সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   লোহাগাড়ায় অপরাধের দাপট  আতঙ্কে মানুষ 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: