ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর তীব্র সমালোচনা করে তার অবিলম্বে পদত্যাগ দাবি করেছেন পর্তুগাল ও বিশ্ব ফুটবলের সাবেক কিংবদন্তি তারকা লুইস ফিগো। একই সঙ্গে ফিফায় স্বজনপ্রীতি, নিয়ম লঙ্ঘন এবং ফুটবলের স্বার্থ বিকিয়ে দেওয়ার অভিযোগ তুলে ধরেছেন তিনি।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘ডেইলি মেইল’-এ প্রকাশিত ফিগোর একটি চিঠির সূত্র ধরে এ খবর জানা গেছে। বর্তমানে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা (UEFA) সভাপতি আলেকসান্দার সেফেরিনের অন্যতম উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এই পর্তুগিজ ফুটবল তারকা।
চিঠিতে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভিন্ন অনিয়মের কথা উল্লেখ করে ফিগো লেখেন, "আমি ফিফার সার্বিক সমস্যা নিয়ে ১০ হাজার শব্দ লিখতে পারি, তবে এর সমাধানের জন্য মাত্র তিনটি শব্দই যথেষ্ট: ‘ইনফান্তিনোকে যেতে হবে’। ২০ বছর পেশাদার ফুটবল খেলেছি এবং সারা জীবন ফুটবলকে ভালোবেসেছি। এই দীর্ঘ সময়ে খেলায় অনেক বদমাশ দেখেছি, কিন্তু গত কয়েক দিনে যা প্রকাশিত হয়েছে, তা আমার দেখা সবচেয়ে নিকৃষ্ট, প্রতারণাপূর্ণ ও কাপুরুষোচিত আচরণ।"
বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করে সাবেক এই রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা তারকা বলেন, "বিশ্বকাপ টুর্নামেন্টের ২০ শতাংশ বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রি করা যদি এতই ভালো পরিকল্পনা হতো, তবে ফাইনালের আগে সব সদস্য যখন এক কক্ষে ছিলেন, তখন কেন তা জানানো হয়নি? সুবিধার পাশাপাশি ঝুঁকিগুলোর কথা কেন গোপন রাখা হলো? আর যদি পরিকল্পনাটি স্পষ্টই হতো, তবে এই সত্য কেন লুকানো হলো, এটি বাস্তবায়িত হলে আপনার বছরে ৩ কোটি (৩০ মিলিয়ন) ডলারের চাকরি সুনিশ্চিত হতো?" বিষয়টি মোটেই স্বচ্ছ বা ভালো কোনো প্রস্তাব ছিল না বলে দাবি করেন তিনি।
ফিফার নীতিনৈতিকতা ও শাসনব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফিগো আরও বলেন, "অনিয়মের দীর্ঘ তালিকা দেখে এখন আর অবাক হওয়ার কিছু নেই। শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত স্থগিত বা বাতিল করা থেকে শুরু করে প্রথমার্ধের বিরতির (হাফ-টাইম) শোয়ের জন্য খেলার নিয়ম বদলানো পর্যন্তম - বন্ধুদের সন্তুষ্ট করতে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। জর্ডান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি প্রিন্স আলির বক্তব্যও বিষয়টি স্পষ্ট করে দিয়েছে, যিনি ইনফান্তিনোর নেতৃত্বাধীন ফিফার ‘মাফিয়া-সদৃশ’ আচরণের কথা ফাঁস করেছেন।"
ফুটবলে অর্থের প্রয়োজনীয়তার কথা স্বীকার করে তিনি বলেন, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের পকেট ভরানো বা কর্মকর্তাদের মোটা অঙ্কের বেতন দেওয়ার উদ্দেশ্যে ফুটবলকে ব্যবহার করা অনুচিত।
চিঠির শেষ অংশে ফিফা সভাপতির আনুষ্ঠানিক বিদায় দাবি করে ফিগো বলেন, "ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতির পদটিকে মর্যাদাহীন করেছেন। তিনি খেলার স্বার্থ বিকিয়ে মিথ্যা বলেছেন, প্রতারণা করেছেন এবং ব্যক্তিগত সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি তার ব্যবস্থাপনা দল, ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা ও ফুটবলপ্রেমীদের সমর্থন হারিয়েছেন। এখন আর তার মর্যাদা রক্ষার সুযোগ নেই, তবে ফুটবলকে বাঁচানোর সময় এখনও আছে। তাকে এখনই চলে যেতে হবে।"
সময়ের আলো/টিকে