প্রথমার্ধে বল দখলে এগিয়ে ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু গোল ছিল না কোনো দলেরই। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে একটি পেনাল্টি ও ডিন হুয়িসেনের লাল কার্ড বদলে দিল ম্যাচের চিত্র। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের রিয়াল মাদ্রিদকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।
রিয়াদ এয়ার মেট্রোপলিতানোতে ম্যাচের প্রথম ৪৫ মিনিটে রিয়ালের দখলে ছিল ৫৫ শতাংশ বল। তবে সেই আধিপত্য থেকে বড় কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা। আতলেতিকোর রক্ষণও সামলে নেয় রিয়ালের আক্রমণ। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পরই আসে ম্যাচের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। ৪৯ মিনিটে গনসালো সিমিওনেকে টেনে ধরায় হুয়িসেনের বিপক্ষে পেনাল্টি দেন রেফারি। শুরুতে হলুদ কার্ড দেখানো হলেও ভিএআর পর্যালোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলে যায়। শেষ ডিফেন্ডার হিসেবে ফাউল করায় হুয়িসেনকে লাল কার্ড দেখানো হয়।
একজন কমে যাওয়ার পর রিয়ালের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে ৫৩ মিনিটে গোল করেন আলেহান্দ্রো গ্রিমালদো। চার মিনিট পরই আবার গোলের সুযোগ তৈরি করে আতলেতিকো। ৫৯ মিনিটে গনসালো সিমিওনের পাস থেকে জোনাথন ডেভিড গোল করলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।
১০ জনের রিয়াল এরপরও ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করেছে। ৬৬ মিনিটে জুলিয়ান আলভারেজের শট গোললাইন থেকে ঠেকিয়ে দেয় আতলেতিকোর রক্ষণ। একই আক্রমণে কোর্তোয়া গুরুত্বপূর্ণ সেভও করেন।
শেষ দিকে রিয়ালের চাপ কিছুটা ফল দেয়। ৮৯ মিনিটে বের্নার্দো সিলভার ক্রস থেকে আন্তোনিও রুডিগার হেডে গোল করে ব্যবধান কমান। তবে শেষ মুহূর্তের চাপ সামলেও জয় ধরে রাখে আতলেতিকো।
ম্যাচের পরিসংখ্যানও আতলেতিকোর নিয়ন্ত্রণের ছবি স্পষ্ট করেছে। পুরো ম্যাচে ৬১ শতাংশ বল ছিল তাদের দখলে, রিয়ালের ৩৯ শতাংশ। আতলেতিকো ১৫টি শট নিয়ে ৮টি লক্ষ্যে রেখেছে, রিয়ালের ৮ শটের মধ্যে লক্ষ্যে ছিল ৩টি। প্রত্যাশিত গোলের হিসাবেও বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল স্বাগতিকেরা—২.৪৩ বনাম রিয়ালের ০.৪০৩।
এই জয়ে সাত ম্যাচে আতলেতিকোর পয়েন্ট হলো ১৬। সমান পয়েন্টে থাকা রিয়াল বেতিসকে পেছনে ফেলে তারা উঠে এসেছে দ্বিতীয় স্থানে। ২১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। রিয়াল মাদ্রিদ ১৫ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে নেমে গেছে।
সময়ের আলো/টিকে