রাফিনহার দুর্দান্ত ফর্মে ছুটছে বার্সেলোনা। চার দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক করে ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নৈপুণ্যে সেভিয়াকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে তারা। এ জয়ে লা লিগায় মৌসুমের প্রথম সাত ম্যাচেই সাত জয় পেল কাতালানের ক্লাবটি। আন্তর্জাতিক বিরতির আগে পূর্ণ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষস্থান আরও শক্ত করেছে হ্যান্সি ফ্লিকের দল।
এস্তাদিও রামোন সানচেজ পিজুয়ানে শুরুটা অবশ্য বার্সার পক্ষে ছিল না। ম্যাচের ১৯ মিনিটে ফেলিক্স কোরেইয়ার ক্রস থেকে হেডে সেভিয়াকে এগিয়ে দেন ইউসুফ ফোফানা। এর আগে লামিন ইয়ামালের শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় গোলের সুযোগ পেয়েছিল বার্সা। গোল হজমের পর দ্রুতই ম্যাচে ফেরে সফরকারীরা। তিন মিনিট পর আন্দ্রেয়াস ক্রিস্টেনসেনের পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নিচের কোণে নিখুঁত শটে সমতা ফেরান রাফিনহা। প্রথমার্ধের শেষ দিকে সেভিয়াই বরং বেশি বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। রবি উরের ভলি অল্পের জন্য বাইরে যায়, পরে কোরেইয়ার শটও পোস্ট ঘেঁষে চলে যায়।
বিরতির পর অবশ্য বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বল দখলে নিয়ে আক্রমণে গতি বাড়ায় বার্সেলোনা। দ্বিতীয়ার্ধের সাত মিনিটেই ইয়ামালের ক্রস থেকে হেডে নিজের দ্বিতীয় গোল করেন রাফিনহা। কিছুক্ষণ পর কর্নার থেকেও সরাসরি গোলের চেষ্টা করে পোস্টে বল লাগান এই ব্রাজিলিয়ান। ৬৯ মিনিটে পূর্ণ হয় রাফিনহার হ্যাটট্রিক। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে ইয়ামাল সামনে দিকে বাড়িয়ে দেন। সেখান থেকে বল পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে জালে পাঠান রাফিনহা। চলতি মৌসুমে এটি তার দ্বিতীয় হ্যাটট্রিক।
৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় বার্সা। শেষ দিকে দানি ওলমো ও করিম আদেয়েমি আরও গোলের সুযোগ তৈরি করলেও সেভিয়ার গোলরক্ষক ভøাখোদিমোস তা ঠেকিয়ে দেন। তবে স্বাগতিকদের আর ম্যাচে ফেরার সুযোগ দেয়নি বার্সা।
এই জয়ে লা লিগায় শতভাগ জয় ধরে রাখল বার্সেলোনা। সাত ম্যাচে সাত জয়ে তাদের পয়েন্ট ২১। চলতি মৌসুমে লা লিগার প্রথম সাত ম্যাচে রাফিনহার গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২। একবিংশ শতাব্দীতে এই সময়ে তার চেয়ে বেশি গোল করেছিলেন কেবল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ২০১৪-১৫ মৌসুমে ১৩টি। আর ইয়ামাল বার্সার হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১৫৯ ম্যাচে ৫১টি অ্যাসিস্ট করেছেন। ১৯ বছর ৬৮ দিন বয়সে লা লিগায় ৫০ অ্যাসিস্ট পূরণ করেন। ২০১৩-১৪ মৌসুমের পর সবচেয়ে কম বয়সে এই কীর্তি গড়েছেন তিনি।
তবে জয়ের মধ্যেও কিছুটা দুশ্চিন্তা আছে বার্সার। দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি উরুর চোটে মাঠ ছাড়তে হয় ক্রিস্টেনসেনকে। তার চোটের অবস্থা আন্তর্জাতিক বিরতির পর দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে