দুই সেমিফাইনালে তিন দলের স্কোরই পেরিয়েছিল দেড়শ। অথচ বাংলাদেশের মেয়েরা সেখানেই থেমে গেল একশর আগেই। ভারতের কাছে ১১৪ রানে বিশাল ব্যবধানে হারের ম্যাচে ব্যাটিং-বোলিং, কোনো বিভাগেই নিজেদের মেলে ধরতে পারেনি নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ভারতের কাছে হেরে স্বর্ণ পদকের স্বপ্ন শেষ, এবার লড়তে হবে পাকিস্তানের সঙ্গে ব্রোঞ্জ পদকের জন্য।
তবে এত বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে এমন ব্যাটিং বিপর্যয়কে স্বাভাবিক হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। যদিও একই সঙ্গে স্বীকার করেছেন, ব্যাটারদের দায়িত্বহীনতার এমন প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে শুরু থেকেই বাংলাদেশের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। বড় লক্ষ্য তাড়ার চাপ সামলাতে পারেনি ব্যাটাররা। ভারতের দেওয়া ১৯৬ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ৮১ রানে গুটিয়ে সেমিফাইনাল থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
এত বড় হারের ব্যবধান নিয়ে জ্যোতি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য অনেক বেশি। তবে আমাদের আরও ভালো খেলা উচিত ছিল।’ ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বোলিংয়েও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি বাংলাদেশ। তবে বড় লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে ব্যাটিং ধসকে খুব অস্বাভাবিক কিছু মনে করছেন না জ্যোতি।
তার ভাষ্যে, ‘এত রানের যখন একটা তাড়া থাকে, তখন এসে এরকম ব্যাটিং বিপর্যয় হয়, এটা স্বাভাবিক বিষয়। কিন্তু আমার কাছে মনে হয়, আরেকটু ভালো বোলিং করলে হয়তো বা আরও কিছু কম রান হতো।’
তবে একই উইকেটে আগের ম্যাচে পাকিস্তানের দেওয়া বড় লক্ষ্য তাড়া করে শ্রীলঙ্কার জয়ের পর বাংলাদেশের ব্যাটিং নিয়ে প্রশ্ন থাকছেই। বড় লক্ষ্য তাড়ায় ধস নামা স্বাভাবিক বললেও এত কম রানে পুরো দল ভেঙে পড়াকে মেনে নিতে পারছেন না জ্যোতি নিজেও, ‘একদমই না। দেখেন, যেখানে এত অল্প রানে একটা টিম কলাপস করে, সেখানে আসলে আমরা ব্যাটাররা কোনো দায়িত্বই নিতে পারিনি।’
এশিয়া কাপের পর টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন জ্যোতি। ভারতের বিপক্ষে হারের পর সেই সিদ্ধান্তের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন তিনি, ‘আমার কাছে মনে হয় একজন ব্যাটার এবং একজন ক্রিকেটার হিসেবে দেশকে বা দলকে আরও অনেক কিছু দেওয়ার আছে। তাই আমি সেদিকে একটু মনোযোগ দিতে চাচ্ছি, এ জন্যই এই ডিসিশন।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে