দুই ম্যাচে দুই হার, গোল হজম ১৬টি, বিপরীতে দিতে পারেনি একটিও। এমন কঠিন বাস্তবতা নিয়েই এশিয়ান গেমসে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে কাল মিয়ানমারের মুখোমুখি হচ্ছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
উত্তর কোরিয়ার কাছে ১০-০ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৬-০ গোলে হারের পর কোয়ার্টার ফাইনালের আশা শেষ হয়ে গেছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। তাই বিদায়ের আগে অন্তত একটি জয় নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চায় পিটার বাটলারের দল। ম্যাচটি হবে ওসাকার নাগাই স্টেডিয়ামে, বাংলাদেশ সময় দুপুর ১টায়। অন্যদিকে মিয়ানমারও প্রথম দুই ম্যাচে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ৫-০ এবং উত্তর কোরিয়ার কাছে ৮-০ গোলে হেরেছে। ফলে দুদলই শেষ ম্যাচে জয় দিয়ে শেষ করতে চাইবে।
টুর্নামেন্টের নিয়ম অনুযায়ী তিন গ্রুপের শীর্ষ দুদল এবং সেরা দুই তৃতীয় দল কোয়ার্টার ফাইনালে উঠবে। তবে দুই ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুদলেরই পয়েন্ট শূন্য এবং গোল ব্যবধানও বড় নেতিবাচক। ফলে শেষ ম্যাচের আগে নকআউটের সমীকরণ তাদের জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে।
মিয়ানমারের বিপক্ষে সাম্প্রতিক আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামবেন মারিয়া, মনিকা, ঋতুপর্ণারা। ২০২৫ সালের জুলাইয়ে ইয়াঙ্গুনের থুয়ান্না স্টেডিয়ামে এএফসি নারী এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে দুই গোলই করেছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। তার জোড়া গোলের সেই জয় বাংলাদেশকে প্রথমবারের মতো এএফসি নারী এশিয়ান কাপের চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পথে এগিয়ে দিয়েছিল। পরে তুর্কমেনিস্তানকে হারিয়ে নিশ্চিত হয় ঐতিহাসিক সেই যোগ্যতা।
সেই ম্যাচের নায়ক ঋতুপর্ণা এবারও বাংলাদেশের আক্রমণের অন্যতম ভরসা। তহুরা খাতুন, ঋতুপর্ণাদের সামনে থাকবে টুর্নামেন্টে প্রথম গোলের অপেক্ষা ঘোচানোর চ্যালেঞ্জ। উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হারলেও মিয়ানমার তুলনামূলকভাবে পরিচিত প্রতিপক্ষ। তাই শেষ ম্যাচে নিজেদের সামর্থ্যরে কাছাকাছি ফুটবল খেলতে চাইবে বাংলাদেশ। রক্ষণে উন্নতি করাটাই হবে বাটলারের দলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। প্রথম দুই ম্যাচে ১৬ গোল হজম করা বাংলাদেশকে মিয়ানমারের বিপক্ষে শুরু থেকেই সংগঠিত থাকতে হবে। পাশাপাশি সুযোগ পেলেই আক্রমণে গিয়ে গোলের খরা কাটাতে হবে।
মিয়ানমারের বিপক্ষে আগের সেই ঐতিহাসিক জয় বাটলারের দলকে আত্মবিশ্বাস জোগাতে পারে। এবার অবশ্য প্রেক্ষাপট ভিন্ন। সামনে কোনো এশিয়ান কাপের টিকেট নয়, বরং এশিয়ান গেমস থেকে বিদায়ের আগে একটি জয় নিয়ে ফেরার লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ করতে পারলে বড় দুই হারের হতাশার মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে পারবে বাঘিনীরা।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে