শিরোনাম দেখে চমকে ওঠার কিছু নেই। প্রশ্ন আসতেই পারে—যে পেলে কখনো ব্যালন ডি’অরই জেতেননি, তিনি কীভাবে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে ছাড়িয়ে গেলেন? রোনালদোর যেখানে পাঁচটি ব্যালন ডি’অর, সেখানে পেলের সংখ্যা কীভাবে সাত?
উত্তরটা লুকিয়ে আছে পুরস্কারটির পুরোনো নিয়মে।
১৯৫৬ সালে প্রথমবার দেওয়া হয় ব্যালন ডি’অর। তবে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত এই পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হতেন শুধু ইউরোপের খেলোয়াড়েরা। ফলে ব্রাজিলিয়ান কিংবদন্তি পেলে, যিনি ইউরোপের বাইরে খেলেছেন, সেই সময়ে ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগই পাননি।
পরে নিয়মে পরিবর্তন আসে। ১৯৯৫ সাল থেকে ইউরোপের যেকোনো লিগে খেলা ফুটবলারদের জন্য জাতীয়তার বাধা তুলে দেওয়া হয়। এরপর ২০০৭ সাল থেকে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তের খেলোয়াড়ই ব্যালন ডি’অরের জন্য বিবেচিত হওয়ার সুযোগ পান। অর্থাৎ তখন থেকে পুরস্কারটি সত্যিকার অর্থেই বৈশ্বিক হয়ে ওঠে।
কিন্তু ২০০৭ সালে নিয়ম বদলানোর সময় পেলের খেলোয়াড়ি জীবন অনেক আগেই শেষ। তাই ২০১৬ সালে ফ্রান্স ফুটবল একটি কাল্পনিক হিসাব প্রকাশ করে—যদি ১৯৫৬ সাল থেকেই ব্যালন ডি’অর বিশ্বের সব খেলোয়াড়ের জন্য উন্মুক্ত থাকত, তাহলে কোন কোন বছর কার হাতে উঠতে পারত পুরস্কারটি?
সেই কাল্পনিক হিসাবে পেলের নাম আসে সাতবার। ১৯৫৮, ১৯৫৯, ১৯৬০ ও ১৯৬১ সালে টানা চারবার; এরপর ১৯৬৩, ১৯৬৪ ও ১৯৭০ সালে আরও তিনবার। অর্থাৎ এই হিসাব অনুযায়ী পেলের সম্ভাব্য ব্যালন ডি’অর হতো সাতটি—রোনালদোর পাঁচটির চেয়ে দুটি বেশি।
তবে এখানে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এগুলো পেলের অফিশিয়াল ব্যালন ডি’অর নয়। বাস্তবে তিনি কখনো এই পুরস্কার জেতেননি। তার ক্যারিয়ারের সময়ে প্রচলিত নিয়মই ছিল ভিন্ন।
তবে পেলের কিংবদন্তি মর্যাদার স্বীকৃতি এসেছে অন্যভাবেও। ২০১৪ সালে ফিফা তাঁকে সম্মানসূচক ব্যালন ডি’অর প্রদান করে। সেটিও অবশ্য প্রতিযোগিতামূলকভাবে জেতা ব্যালন ডি’অরের হিসাবের অংশ নয়।
তাই ‘পেলের সাত ব্যালন ডি’অর’ বলা হলে সেটিকে বাস্তব রেকর্ড হিসেবে নয়, ২০১৬ সালের ফ্রান্স ফুটবলের কাল্পনিক পুনর্মূল্যায়ন হিসেবে দেখতে হবে। বাস্তব রেকর্ডে পেলের ব্যালন ডি’অর শূন্য, আর রোনালদোর পাঁচ।
তবু প্রশ্নটা থেকেই যায়—১৯৫৬ সাল থেকেই যদি ব্যালন ডি’অর সবার জন্য উন্মুক্ত থাকত, পেলে কি সত্যিই রোনালদোর চেয়ে বেশি পুরস্কার জিততেন?
সময়ের আলো/টিকে