র্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান, প্রতিপক্ষের শক্তি ও আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা। সব মিলিয়ে ফিফা আসিয়ান কাপে কঠিন পরীক্ষার সামনে বাংলাদেশ। গ্রুপে স্বাগতিক ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরের মতো শক্তিশালী দল। র্যাঙ্কিংয়েও তিন প্রতিপক্ষের চেয়ে পিছিয়ে লাল-সবুজের দল। তার ওপর প্রতিপক্ষদের কয়েকজন খেলোয়াড় ইউরোপের বিভিন্ন লিগে খেলছেন। বাস্তবতার এই হিসাব থেকেই দলের ওপর খুব বেশি প্রত্যাশা না রাখার পরামর্শ দিয়েছেন কোচ টমাস ডুলি।
তবে কোচের সতর্ক অবস্থানের সঙ্গে পুরোপুরি একমত নন অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। তার কাছে কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার অর্থ শুধু মাঠে নামা নয়, বরং নির্দিষ্ট লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করা। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতি থাকলেও পরের রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন নিয়েই ইন্দোনেশিয়া যাচ্ছে বাংলাদেশ। গ্রুপের চার দলের মধ্যে র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশই সবচেয়ে পিছিয়ে।
দেশ ছাড়ার আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জামাল বলেন, ‘মানুষের অনেক প্রত্যাশা থাকে, এটাই সত্যি। কারণ সবাই জিততে চায়। আমার মনে হয়, কোচ র্যাঙ্কিংয়ের কথা বিবেচনা করে এমনটা বলেছেন। কারণ, এই গ্রুপে আমরাই সবচেয়ে পিছিয়ে। তবে অধিনায়ক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা হলো, আমরা কোয়ালিফাই করতে চাই।’ টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই হাল ছেড়ে দেওয়ার মানসিকতা মানতে নারাজ বাংলাদেশ অধিনায়ক।
তার মতে, ‘একটি দল যখন কোনো আসরে খেলতে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই পরের ধাপে যাওয়ার লক্ষ্য থাকে।’ ‘আপনি তো একটা টুর্নামেন্টে গিয়ে বলতে পারেন না যে, আমরা শুধু অংশগ্রহণ করতে এসেছি! সবারই একটা লক্ষ্য থাকে। আমাদের খেলোয়াড়দেরও লক্ষ্য পরের রাউন্ডে খেলা। যেহেতু এটি একটি বড় ফিফা টুর্নামেন্ট, তাই সবার মাঝেই বড় প্রত্যাশা কাজ করছে’ বলেন জামাল।
তবে এই আত্মবিশ্বাসের পেছনে বাস্তব উদাহরণও আছে। ২০১৮ সালের ইন্দোনেশিয়া সফরকে এবার অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন তিনি। সেবার এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের গ্রুপে ছিল উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড ও কাতার। উজবেকিস্তানের কাছে ৩-০ গোলে হেরে শুরু করেও থাইল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ ড্র এবং কাতারকে ১-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলোতে উঠেছিল বাংলাদেশ। কাতারের বিপক্ষে যোগ করা সময়ে জয়সূচক গোলটি করেছিলেন জামাল নিজেই। সেই স্মৃতি টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা জানি কাজটা কঠিন হবে। ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া অনেক শক্তিশালী দল। তবে ২০১৮ সালে আমরা যখন ইন্দোনেশিয়ায় ছিলাম, আমাদের গ্রুপে উজবেকিস্তান, থাইল্যান্ড ও কাতার ছিল। তখন কেউ ভাবেনি আমরা কোয়ালিফাই করব। কিন্তু আমরা ঠিকই শেষ ষোলোতে গিয়েছিলাম। এবারও তেমন কিছু হতে পারে।’
স্বপ্নের পাশাপাশি অবশ্য দুশ্চিন্তাও আছে। টুর্নামেন্টের আগে ইনজুরি সমস্যায় পড়েছে বাংলাদেশ। রক্ষণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় তপু বর্মণের ছিটকে যাওয়া দলের জন্য বড় ধাক্কা। এ ছাড়া ইউরোপের লিগে খেলা হামজা চৌধুরী ছাড়া দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ের আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতাও তুলনামূলক কম।
ফলে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সামর্থ্যের সর্বোচ্চটা দিতে হবে দলকে। দিনে দুই বেলা কঠোর অনুশীলনের কারণেই চোটের সংখ্যা বাড়ছে কি না, এমন প্রশ্নে কোচিং স্টাফদের পাশে দাঁড়িয়েছেন জামাল। এটিকে প্রি-সিজন প্রস্তুতির স্বাভাবিক অংশ হিসেবে দেখছেন তিনি। জামালের ভাষায়, ‘আমরা এখন প্রি-সিজনে আছি। প্রি-সিজন প্র্যাকটিস একটু কঠিনই থাকে, এখানে লোড একটু বেশি নিতে হয়। সম্ভবত সেই কারণেই ইনজুরি কিছুটা বেশি হয়েছে।’
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে