এত গোল, এত দ্রুত পাল্টে যাওয়া ম্যাচ—এমন এক লড়াইয়ের জন্য এদিন ইতিহাদ স্টেডিয়াম যেন তৈরি হয়েই ছিল। গোল হয়েছে আটটি, হ্যাটট্রিক করেছেন এক ফরোয়ার্ড। তবে শেষ হাসি হেসেছে ম্যানচেস্টার সিটি। সান্ডারল্যান্ডকে ৫-৩ গোলে হারিয়ে প্রিমিয়ার লিগে টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের রেকর্ড ধরে রেখেছে তারা।
ম্যাচের শুরু থেকেই অবশ্য সান্ডারল্যান্ডকে বেশ আত্মবিশ্বাসী মনে হয়েছে। প্রথম ১৫ মিনিটে বলের দখলও তাদের বেশি ছিল। কিন্তু আক্রমণের সেই নিয়ন্ত্রণ কাজে লাগানোর আগেই ম্যানচেস্টার সিটি এগিয়ে যায়। ৯ মিনিটে সরাসরি ফ্রি-কিক থেকে দুর্দান্ত গোল করেন এনজো ফার্নান্দেজ।
গোল খাওয়ার পরও সান্ডারল্যান্ড ভেঙে পড়েনি। মাত্র তিন মিনিট পরই সমতা ফেরান ব্রায়ান ব্রোবি। এড্রিসা লেফের পাস কাজে লাগিয়ে ডান পায়ের শটে গোল করেন তিনি। ম্যাচ তখন থেকেই হয়ে ওঠে পাল্টাপাল্টি আক্রমণের।
২৯ মিনিটে রায়ান শেরকির গোলে আবার এগিয়ে যায় সিটি। এরপর ৩৩ মিনিটে ব্রোবি নিজের দ্বিতীয় গোল করে ম্যাচ ২-২ করেন। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে আবারও ব্যবধান বাড়ায় স্বাগতিকেরা। ৪৩ মিনিটে ম্যানুয়েল গুয়েহির সহায়তায় গোল করেন সেমেনিও।
বিরতিতে ৩-২ ব্যবধানে এগিয়ে থাকলেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি সিটির হাতে ছিল না। প্রথমার্ধের বল দখলে দুই দল প্রায় সমানে ছিল এবং সান্ডারল্যান্ড বারবার সিটির রক্ষণে চাপ তৈরি করেছে।
দ্বিতীয়ার্ধে সেমেনিও আবারও পার্থক্য গড়ে দেন। ৫৭ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে সিটির ব্যবধান ৪-২ করেন তিনি। তবে সান্ডারল্যান্ডও হাল ছাড়েনি। ৫৯ মিনিটে গোল করে ব্রোবি পূর্ণ করেন হ্যাটট্রিক। ৫-৩? না, তখন স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-৩—ম্যাচ আবারও জমে ওঠে।
শেষ দিকে অবশ্য সিটির অভিজ্ঞতা ও আক্রমণভাগের কার্যকারিতা কাজে লাগে। ৮১ মিনিটে জসকো ভার্দিওলের ক্রস থেকে গোল করেন আর্লিং হালান্ড। ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলটি অনুমোদিত হয়। তাতেই সিটির জয় নিশ্চিত হয়।
সেমেনিও-ব্রোবির দ্বৈরথ
ম্যাচের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল দুই দলের দুই ফরোয়ার্ডের লড়াই। সান্ডারল্যান্ডের ব্রোবি তিন গোল করে হ্যাটট্রিক করেছেন। অন্যদিকে সিটির সেমেনিওও করেছেন দুই গোল—৪৩, ৫৭ মিনিটে তার গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছে।
সংখ্যায় ম্যাচ
গোলের ব্যবধান তিন হলেও পরিসংখ্যান বলছে ম্যাচটি একতরফা ছিল না। সিটির বল দখল ছিল ৫৫ শতাংশ, সান্ডারল্যান্ডের ৪৫ শতাংশ। মোট শটে সিটি ১৬টি, সান্ডারল্যান্ড ১৫টি। লক্ষ্যে দুই দলই শট নিয়েছে ৬টি করে।
তবে সুযোগ তৈরিতে সিটি সামান্য এগিয়ে ছিল। তাদের প্রত্যাশিত গোল বা এক্সপেক্টেড গোল (xG) ছিল ২.৭৬৩, যেখানে সান্ডারল্যান্ডের ২.৫৫। অর্থাৎ ৫-৩ ফল হলেও সুযোগ তৈরির বিচারে দুই দলই ম্যাচে যথেষ্ট কার্যকর ছিল।
সিটির পাস ছিল ৪৭০টি, সান্ডারল্যান্ডের ৩৮৫টি। অন্যদিকে সান্ডারল্যান্ড ২৫টি ক্রস দিয়েছে, সিটি ২৪টি। রক্ষণেও সান্ডারল্যান্ডকে বেশ কিছু সময় ব্যস্ত থাকতে হয়েছে—তাদের ক্লিয়ারেন্স ২৫টি, সিটির ১৭টি।
টানা পাঁচ জয় সিটির
এই জয়ের ফলে পাঁচ ম্যাচে পাঁচ জয় নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে ম্যানচেস্টার সিটি। পাঁচ ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ১৫, গোল করেছে ১৩টি এবং হজম করেছে ৫টি।
তবে ৫-৩ ব্যবধানের জয়টি সিটির জন্য কিছু প্রশ্নও রেখে গেছে। তিন গোল করার পরও ম্যাচের শেষ পর্যন্ত সান্ডারল্যান্ড যেভাবে চাপ ধরে রেখেছে, তাতে রক্ষণভাগের কিছু দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে। বিশেষ করে ব্রোবির হ্যাটট্রিক দেখিয়েছে, সিটির রক্ষণকে আরও সতর্ক হতে হবে।
তবু আক্রমণভাগের কার্যকারিতা এবং ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে গোল করার ক্ষমতা সিটিকে শেষ পর্যন্ত তিন পয়েন্ট এনে দিয়েছে। আর আট গোলের এই ম্যাচটি প্রিমিয়ার লিগের মৌসুমের শুরুতেই দর্শকদের দিয়েছে একেবারে খাঁটি গোল-উৎসবের স্বাদ।
সময়ের আলো/টিকে