বাংলাদেশের বিপক্ষে আসন্ন টেস্ট সিরিজে মাঠে নামার আগে ইতিহাসের খুব কাছাকাছি দাঁড়িয়ে আছেন মিচেল স্টার্ক। আর মাত্র একটি উইকেট পেলেই ভারতের কিংবদন্তি কপিল দেবকে ছাড়িয়ে যাবেন অস্ট্রেলিয়ার এই বাঁহাতি পেসার।
আর সিরিজে সাতটি উইকেট নিতে পারলেই ডেল স্টেইনের ৪৩৯ উইকেট পেরিয়ে টেস্ট ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ফাস্ট বোলারদের তালিকায় উঠে আসবেন পঞ্চম স্থানে। এমন মাইলফলকের সামনে দাঁড়িয়ে স্টার্ক জানালেন, তার ক্যারিয়ারের সেরা বোলিংয়ের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে মানসিক পরিবর্তন।
আগামী সপ্তাহে ডারউইনে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলতে নামবেন ৩৬ বছর বয়সি এই পেসার। বর্তমানে তার টেস্ট উইকেট সংখ্যা ৪৩৩। কপিল দেবের ৪৩৪ উইকেট ছুঁতে প্রয়োজন মাত্র একটি শিকার। আর সিরিজে সাতটি উইকেট নিলেই ছাড়িয়ে যাবেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি ডেল স্টেইনকে (৪৩৯)।
এতেই শেষ নয়। আরও সাতটি উইকেট শিকার করতে পারলে স্টার্ক টেস্ট ইতিহাসের সর্বকালের সেরা ১০ উইকেটশিকারি বোলারের তালিকাতেও জায়গা করে নেবেন। বর্তমানে সেই তালিকায় আছেন তার সতীর্থ নাথান লায়ন, যার উইকেট সংখ্যা ৫৬৭।
দারুণ ফর্মে থাকা স্টার্ককে ২০২৫-২৬ মৌসুমের অ্যালান বর্ডার মেডেল জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে ধরা হচ্ছে। গত বছর তিনি ১৭.৩২ গড়ে ৫৫টি উইকেট নিয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেন। এর আগে ২০২২ সালেও এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার জিতেছিলেন তিনি।
স্টার্কের মতে, ক্যারিয়ারের দ্বিতীয়ার্ধে ধারাবাহিক সাফল্যের অন্যতম কারণ অস্ট্রেলিয়ার পেস আক্রমণের স্থিতিশীলতা। পাশাপাশি কুকাবুরা বলে ‘ওয়াবল সিম’ ব্যবহারের উন্নতিও তাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছে। তবে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে নিজের মানসিকতায়।
স্টার্ক বলেন, ‘এখন আমি বাজে বিষয়গুলো ছেড়ে দিতে শিখেছি। আপনি কখনোই ততটা ভালো নন, যতটা আপনি বা অন্যরা ভাবেন। আবার ততটা খারাপও নন, যতটা মনে করা হয়।’ তিনি আরও বলেন, ‘এখনও কোনো কিছু ঠিকমতো না হলে আমি অভিযোগ করি, বিরক্ত হই। এমনকি গত গ্রীষ্মেও অ্যাশেজ শুরুর আগের দিন পর্যন্ত মনে হয়নি সবকিছু ঠিকঠাক হয়েছে।
কিন্তু আমাদের দলের সবচেয়ে বড় শক্তি, যা ‘রন’ (প্রধান কোচ অ্যান্ড্রু ম্যাকডোনাল্ড) ও প্যাট কামিন্স গড়ে তুলেছেন, তা হলো ভালো দিন হোক বা খারাপ দিন, ভালো ওভার হোক বা খারাপ স্পেল, সেটা শেষ। এরপর সামনে এগিয়ে যেতে হবে। কারণ তখন আর কিছুই বদলানো যায় না।’
বয়সকে কখনোই বাধা মনে করেন না স্টার্ক। ৩৫ বছর বয়সের পর অস্ট্রেলিয়ার হয়ে সবচেয়ে বেশি টেস্ট উইকেট নেওয়া পেসারদের তালিকায় তার ওপরে আছেন কেবল গ্লেন ম্যাকগ্রা।
নিজের দীর্ঘ ক্যারিয়ার নিয়ে স্টার্ক বলেন, ‘আপনি যখন ৩৬ বছর বয়সে ১৬ বছর ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছেন, তখন আশা করাই যায় যে কোনো না কোনো জায়গায় উন্নতি করেছেন। এত দিন টিকে থাকার কারণই হলো আপনি শিখেছেন, নিজেকে উন্নত করেছেন এবং নতুন কিছু যোগ করেছেন।’
তিনি যোগ করেন, ‘ওয়াবল সিম, ধারাবাহিকতা এবং আরও কিছু বিষয় যোগ হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন আমার মানসিকতা অনেক পরিষ্কার।’ বাংলাদেশ সিরিজে ডেল স্টেইনের রেকর্ড ছাড়াতে পারলে ফাস্ট বোলারদের মধ্যে স্টার্কের ওপরে থাকবেন কেবল জেমস অ্যান্ডারসন, স্টুয়ার্ট ব্রড, গ্লেন ম্যাকগ্রা ও কোর্টনি ওয়ালশ। আর ইতিহাসের সেরা ১০ উইকেটশিকারি বোলারের তালিকাতেও নিজের নাম লেখানোর সুযোগ থাকবে এই অস্ট্রেলিয়ান তারকার সামনে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে