কার্টার থেকে ট্রাম্প : কেন বারবার ইরানকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তেহরানকে নিজেদের শর্ত মেনে চলার চাপও দিচ্ছে

2026-08-06T11:52:38+00:00
2026-08-06T11:52:38+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬,
২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
কার্টার থেকে ট্রাম্প : কেন বারবার ইরানকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র?
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৫২ এএম 
ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। একই সঙ্গে তেহরানকে নিজেদের শর্ত মেনে চলার চাপও দিচ্ছে ওয়াশিংটন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইরানকে বোঝার ক্ষেত্রে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন নন; ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর থেকে প্রায় সব মার্কিন প্রেসিডেন্টই একই ভুল করেছেন।

নিউইয়র্ক টাইমসের এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান সমস্যা হলো তারা বারবার ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোকে ভুলভাবে মূল্যায়ন করেছে। দেশটিতে নির্বাচিত সরকার থাকলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের ক্ষমতা সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতার হাতে। ফলে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সমঝোতা করলেও তা বাস্তবায়নের নিশ্চয়তা থাকে না।

সম্প্রতি ট্রাম্প নিজেও ইরান নিয়ে হতাশার কথা প্রকাশ করেছেন। গত সপ্তাহে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওরা আমাকে শুধু রাগিয়ে তোলে। একই সঙ্গে তিনি ইরানকে আলোচনায় ‘অবিশ্বাস্যভাবে দ্বিমুখী’ বলেও মন্তব্য করেন।

ইরানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক কেনেথ পোলাকের মতে, ট্রাম্প আসলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতিগত দ্বন্দ্বের প্রতীক। তার ভাষায়, ট্রাম্প যেমন ইরানের সঙ্গে চুক্তি করতে সবচেয়ে বেশি আগ্রহ দেখিয়েছেন, তেমনি সবচেয়ে বেশি সামরিক শক্তিও প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু কোনো পথেই তিনি কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি।

১৯৮০ সালে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার তেহরানে জিম্মি হয়ে থাকা ৫২ মার্কিন নাগরিককে মুক্ত করার জন্য একটি সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছে বলে মনে করেছিলেন। কিন্তু ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। এরপর মার্কিন উদ্ধার অভিযানও ব্যর্থ হয়। শেষ পর্যন্ত কার্টারের দায়িত্ব ছাড়ার দিন জিম্মিরা মুক্তি পান।

রোনাল্ড রিগ্যান প্রশাসন ধারণা করেছিল, মধ্যপন্থী ইরানি নেতাদের মাধ্যমে সম্পর্ক উন্নত করা সম্ভব হবে। সেই বিশ্বাসে গোপনে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেটিই পরে ‘ইরান-কনট্রা’ কেলেঙ্কারিতে রূপ নেয়। পরে সিআইএ জানায়, পুরো পরিকল্পনার মধ্যস্থতাকারী ব্যক্তি প্রতারক ছিলেন।

১৯৯৭ সালে সংস্কারপন্থি প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ খাতামি ক্ষমতায় এলে বিল ক্লিনটন প্রশাসন সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করে। যুক্তরাষ্ট্র কিছু ইরানি পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে এবং অতীতের কিছু কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখও প্রকাশ করে। তবে সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি সেই উদ্যোগে সাড়া দেননি। ফলে দুই দেশের সম্পর্কের কোনো মৌলিক পরিবর্তন হয়নি।

বারাক ওবামা ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে ঐতিহাসিক পরমাণু চুক্তি (জেসিপিওএ) করতে সক্ষম হন। এর মাধ্যমে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধতা আরোপে সম্মত হয় এবং বিনিময়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়। তবে এই চুক্তিও দুই দেশের রাজনৈতিক সম্পর্কের স্থায়ী উন্নতি আনতে পারেনি। পরে ২০১৮ সালে ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিলে সেটি কার্যত ভেঙে পড়ে।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা বারবার ধরে নিয়েছেন যে অর্থনৈতিক চাপ, কূটনীতি কিংবা সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে সহজেই ইরানের অবস্থান বদলানো সম্ভব।

ব্রুকিংস ইনস্টিটিউশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট সুজান ম্যালোনি বলেন, মার্কিন প্রশাসন ইরানের আদর্শিক ভিত্তি এবং ক্ষমতার প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে যথাযথভাবে বুঝতে পারেনি।

মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক অভিজ্ঞ আলোচক ডেনিস রসের মতে, ইরানিরা আমাদের যতটা বোঝে, আমরা তাদের ততটা বুঝি না। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্র দ্রুত সমাধান চায়, আর ইরান সময়কে নিজের পক্ষে কাজে লাগাতে জানে। ওয়াশিংটনের তাড়াহুড়োকেই তেহরান আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা হিসেবে ব্যবহার করে।

নিউইয়র্ক টাইমেসের প্রতিবেদনে বলা হয়, ট্রাম্প শুরুতে ভেবেছিলেন সামরিক চাপ প্রয়োগ করলে ইরান দ্রুত ছাড় দেবে। কিন্তু বাস্তবে তেহরান হরমুজ প্রণালি ও পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত দাবিগুলোর অনেকটাই প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ট্রাম্পও সেই মার্কিন প্রেসিডেন্টদের তালিকায় যুক্ত হলেন, যারা ইরানকে প্রভাবিত করতে চাইলেও দেশটির ক্ষমতার কাঠামো ও রাজনৈতিক বাস্তবতা পুরোপুরি বুঝতে পারেননি।

সময়ের আলো/ কেএইচ



  বিষয়:   সময়ের আলো  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র  ট্রাম্প 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: