সাবেক অর্ন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের উচিত সাকিব আল হাসানের সমস্ত রেকর্ড, পরিসংখ্যান এবং মাইলফলক মুছে ফেলা। যে ক্রিকেটার প্রকাশ্যে একজন দণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে পূজা করেন, ক্রিকেটের ইতিহাসে তার নাম থাকার কোনো অধিকার নেই। ইতিহাস থেকে সাকিবের নাম এবং রেকর্ড মুছে ফেলা হলে আমাদের ক্রিকেট মোটেও নিঃস্ব হয়ে যাবে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে তিনি এসব কথা বলেন।
পোস্টে শফিকুল আলম লেখেছেন, ব্যারি রিচার্ডস, গ্রায়েম ও পিটার পোলক, মাইক প্রোক্টর এবং এডি বার্লো সাকিবের চেয়ে অনেক বড় মাপের খেলোয়াড় ছিলেন। তাদের হাতে রক্ত লেগেছিল না। তারা সাকিবের মতো এত দুর্নীতিগ্রস্তও ছিলেন না। তাদের একমাত্র ‘অপরাধ’ ছিল এমন একটি বর্ণবাদী শাসনের অংশ হওয়া, যা তাদের বর্ণ শ্রেষ্ঠত্ব জাহির করার কাজে ব্যবহার করেছিল। যার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে তাদের বাদ পড়তে হয়েছিল, যদিও ব্যারি রিচার্ডস সম্ভবত তার সময়ের সেরা ব্যাটসম্যান ছিলেন।
পোস্টে তিনি লেখেন, হয়তো কোনো একদিন বিসিবি সভাপতি হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে সাকিব একজন হিটলারকে পূজা করেন এবং দেশে ফিরে একটি খুনি শাসনব্যবস্থাকে পুনর্বাসিত করার স্বপ্ন দেখেন। তার ‘ক্যাপ্টেন’ শেখ হাসিনা, যাদের সংঘটিত গণহত্যার অপরাধগুলো জাতিসংঘের একটি স্বাধীন অনুসন্ধান মিশন নিখুঁতভাবে নথিভুক্ত করেছে, তার সেসব অপরাধের জন্য সাকিবের মধ্যে কোনো অনুশোচনা দেখা যায়নি।
এতে তিনি আরও লেখেন, আমাদের ক্রিকেটে গণহত্যাকারীর পূজারীদের কোনো স্থান থাকা উচিত নয়। মানবতাবিরোধী অপরাধে সহায়তাকারী এবং ফ্যাসিবাদী সরকারের চাটুকারদের ক্রীড়া বীর হিসেবে আমাদের কোনো প্রয়োজন নেই।
পোস্টের শেষাংশে তিনি ২০০৯ সালে বিডিআর সদর দফতরে ৫৭ জন সামরিক কর্মকর্তা হত্যার প্রসঙ্গে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস সচিব লেখেন, কাবাডি, ভলিবল, বাস্কেটবল, কুস্তি এবং অ্যাথলেটিক্সের জাতীয় চ্যাম্পিয়নসহ বেশ কয়েকজন ক্রীড়াবিদকে মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। তাদের জন্য কেউ অশ্রুপাত করেনি। কেউ তাদের ক্ষমার জন্য আবেদন জানায়নি।
তিনি আরও লেখেন, সাকিবের জানা উচিত যে, গণহত্যাকারীকে পূজা করে কেউ রেহাই পেতে পারে না।
সময়ের আলো/কেএইচও