স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দাদনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদাযয়ের অভিযোগ

খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি

সারাদেশ

খাগড়াছড়িতে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দাদনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ব্ল্যাংক চেক ও জমির কাগজপত্র জিম্মি

2026-08-08T11:47:17+00:00
2026-08-08T11:47:17+00:00
 
  শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দাদনের নামে অতিরিক্ত অর্থ আদাযয়ের অভিযোগ
খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ১১:৪৭ এএম 
অভিযুক্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জিত ধর, তার জুইলার্সের দোকান ও দাদনের বিভিন্ন রিসিট। ছবি : সময়ের আলো
খাগড়াছড়িতে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে দাদনের নামে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ব্ল্যাংক চেক ও জমির কাগজপত্র জিম্মি করে মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত স্বর্ণ ব্যবসায়ী সঞ্জিত ধরের বিরুদ্ধে একাধিক ভুক্তভোগী এমন গুরুতর অভিযোগ করেছেন।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি স্বর্ণালংকার বন্ধক নেওয়ার পাশাপাশি জমির দলিল ও ব্ল্যাংক চেক গ্রহণ করে উচ্চ হারে সুদ আদায় করেন। নির্ধারিত অর্থের চেয়ে অনেক বেশি টাকা পরিশোধ করার পরও ব্ল্যাংক চেকে ইচ্ছামতো টাকার অঙ্ক বসিয়ে মামলা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। পরবর্তীতে ঋণের টাকা পরিশোধের পরও বন্ধক রাখা কাগজপত্র ও চেক ফেরত না দিয়ে উল্টো আইনি নোটিশ পাঠিয়ে মামলা করে হয়রানি করা হয়। এতে দীর্ঘদিন ধরে আদালতে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে নিঃস্ব হওয়ার পথে।

খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার ঠাকুরছড়া এলাকার বাসিন্দা শতাব্দী ত্রিপুরা জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে নিজের স্বর্ণ বন্ধক রেখে কয়েক ধাপে ২ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দাদন নেন। পরবর্তীতে তিনি এককালীন ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। এরপরও সঞ্জিত ধর তাকে বিরক্ত করতে থাকেন। বাধ্য হয়ে আরও ১ লাখ টাকা দিতে গেলে তিনি সেই টাকা না নিয়ে মুখের ওপর ছুড়ে মারেন এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন খারাপ প্রলোভন দেখান। প্রলোভন প্রত্যাখ্যান করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়। এর দুই-তিন মাসের ব্যবধানে তার স্বামীর নামে থাকা ব্ল্যাংক চেকে ২৭ লাখ টাকা এবং পরবর্তী সময়ে ২০ লাখ টাকার চেক ইস্যু দেখিয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। তিনি এর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

তার স্বামী বিধু ভূষণ ত্রিপুরা জানান, ২০২১ সালে পারিবারিক সমস্যার কারণে টাকার প্রয়োজন হলে স্ত্রীর স্বর্ণ বন্ধক রেখে তারা টাকা নেন। সেই টাকা পরিশোধ করার পরও স্বর্ণ ফেরত না দিয়ে উল্টো আরও টাকা দাবি করা হয়। আপস মীমাংসার চেষ্টা করেও কোনো সুরাহা মেলেনি। পরবর্তীতে তার নামে মিথ্যা ব্ল্যাংক চেকে ২০ লাখ ও ২৭ লাখ টাকা বসিয়ে লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক ও রিজিয়ন বরাবর অভিযোগ দেওয়া হলেও এখন পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।



চেঙ্গী ব্রিজ সংলগ্ন বলপেই-আদম এলাকার বাসিন্দা মনিকা রানী দাশ জানান, পারিবারিক সমস্যার কারণে জমির দলিল ও ব্ল্যাংক চেক দিয়ে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন। তখন শতকরা ১০ টাকা হারে সুদ চাওয়া হলেও দরকষাকষির পর ৭ টাকা হারে ঠিক হয়। এর মধ্যে ৯৫ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে আরও ৫০ হাজার টাকা দিতে গেলে তিনি তা নিতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে তিনি ব্ল্যাংকে ৭ লাখ টাকার মামলা করেন। বন্ধকি জমির একটি অংশ বিক্রি করে তাকে ৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও তিনি মামলা তুলে নেননি। বর্তমানে সহায়-সম্বল বিক্রি করে তারা নিঃস্ব হয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করছেন।

ইসলামপুরের বাসিন্দা আসমা বেগম জানান, ২০২২ সালে আর্থিক সংকটের কারণে ৬ ভরি স্বর্ণ বন্ধক রেখে চার ধাপে ২ লাখ ৫ হাজার টাকা নেন। টাকা পরিশোধ করতে চাইলে তিনি ১২ লাখ টাকা দাবি করেন। ৪ লাখ টাকা দিতে গেলে তা ছুড়ে ফেলা হয়। পরবর্তীতে ২০ লাখ টাকার ব্ল্যাংক চেকের মামলা করা হয়। স্বামী ও আত্মীয়স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে ৫ লাখ টাকা দিতে চাইলেও তিনি রাজি হননি এবং ২০ লাখ টাকাই দাবি করেন। পাশাপাশি তার ৬ ভরি স্বর্ণালংকারও ফেরত দিচ্ছেন না এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে ভয়ভীতি দেখাচ্ছেন।

এ বিষয়ে খাগড়াছড়ি বাজারের প্রিয়া জুয়েলার্সের মালিক সঞ্জিত ধর তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন। সরাসরি সাক্ষাৎকালে কথা বলতে চাইলে তিনি অসুস্থতার কারণে চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানান, অথচ খোঁজ নিয়ে জানা যায় তিনি বাড়িতেই অবস্থান করছেন।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) খাগড়াছড়ি জেলা শাখার সদস্য সচিব সঞ্জয় পাল বলেন, বিষয়টি তারা শুনেছেন। এটি শুধু স্বর্ণের বিষয় হলে সমিতি দেখত, তবে চেকের মামলার বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে কোনো সমাধান দেওয়া সম্ভব নয়, এটি তার ব্যক্তিগত বিষয়।

খাগড়াছড়ি জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত জানান, এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। কোনো ভুক্তভোগী পরিবার প্রমাণসহ অভিযোগ করলে এবং থানায় মামলা করতে চাইলে সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ভুক্তভোগীরা অবিলম্বে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং হয়রানি থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

সময়ের আলো/জোই


  বিষয়:   খাগড়াছড়ি  চট্টগ্রাম  স্বর্ণ ব্যবসায়ী  দাদন  অতিরিক্ত অর্থ  আদায়  ব্ল্যাংক চেক  জমি  জিম্মি  মামলা হয়রানি  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: