কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের স্বাধীনতা কক্ষ পরিদর্শন করেন তথ্য প্রতিমন্ত্রী। ছবি : সময়ের আলো
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেছেন, ‘কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র দেশের ইতিহাস ও মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কেন্দ্র থেকে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনা যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
শনিবার (৮ আগস্ট) চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আরও বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আশা করি, চলতি অর্থবছর অথবা আগামী অর্থ বছরের মধ্যে এ বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হবে।’
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনে তথ্য প্রতিমন্ত্রী। ছবি : সময়ের আলো
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন প্রতিরোধে সরকারের উদ্যোগ সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।’
ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ‘অনলাইন মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কনটেন্ট তৈরি হচ্ছে। এসব মাধ্যমে শিক্ষণীয় ও সচেতনতামূলক রিলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নিউ মিডিয়া প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।’
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি কোনটি সঠিক তথ্য, কোনটি মিসইনফরমেশন এবং কোনটি ডিজইনফরমেশন তা শনাক্ত করার জন্য বিভিন্ন টুলস ও সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে যাচাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হবে।’
বাংলাদেশ বেতারকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বেতারের এফএম সম্প্রচার শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে। ’
বিটিভিকে আধুনিক ও দর্শকবান্ধব করার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) জন্য ফরেনসিক অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী ১০ দিনের মধ্যে অডিট কার্যক্রম শুরু হতে পারে। অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিটিভির জনপ্রিয় সিগনেচার অনুষ্ঠান নতুন কুঁড়িকে আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে নতুন কুঁড়ির আবেদন গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে।’ এ ধরনের অনুষ্ঠান আরও সুন্দরভাবে উপস্থাপন করা গেলে দর্শক-শ্রোতাদের বিটিভির প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রের পরিচালক শাহীন আক্তার, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার (রুটিন দায়িত্ব) বাপ্পী চক্রবর্তী, বাংলাদেশ বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।