এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে এবিজি ফাউন্ডেশন

বিবিধ

রাজধানীর জামিয়া মোহাম্মাদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বসবাসরত প্রায় আড়াইশ শিশুর জীবনে আপন বলতে অনেকটাই সীমিত কয়েকটি বাক্স, একটি বিছানা

2026-08-08T17:22:23+00:00
2026-08-08T17:22:23+00:00
 
  শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬,
২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার, ৮ আগস্ট ২০২৬
বিবিধ
এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটাচ্ছে এবিজি ফাউন্ডেশন
প্রকাশ: শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬, ৫:২২ পিএম 
ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর জামিয়া মোহাম্মাদীয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় বসবাসরত প্রায় আড়াইশ শিশুর জীবনে আপন বলতে অনেকটাই সীমিত কয়েকটি বাক্স, একটি বিছানা আর ছোট্ট একটি ট্রাংক। পরিবারের সান্নিধ্য থেকে দূরে থাকা এসব শিশুর কাছে ছুটির দিনও অনেক সময় অন্য দিনের মতোই নিরানন্দ। স্বজনের ভালোবাসা ও পারিবারিক আনন্দের অভাব তাদের শৈশবকে করে তোলে নিঃসঙ্গ।

তবে সেই নিঃসঙ্গ জীবনে ভালোবাসা ও আনন্দের পরশ ছড়িয়ে দিচ্ছে আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে নিয়মিতভাবে এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। প্রতি শুক্রবার জুমার নামাজের পর এসব শিশুর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে উন্নতমানের খাবার। পুষ্টিকর খাবারের পাশাপাশি এই উদ্যোগ তাদের মনে জাগিয়ে তুলছে আপনজনের মতো যত্ন পাওয়ার অনুভূতি।

শুধু নিয়মিত খাবার বিতরণই নয়, নিজের বিশেষ দিনগুলোতেও সায়েম সোবহান আনভীর বেছে নেন সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর পথ। জন্মদিনের মতো ব্যক্তিগত আনন্দের দিনেও জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের পরিবর্তে এতিম শিশুদের মুখে হাসি দেখাকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন।

মানবিক এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় শুক্রবার (৭ আগস্ট) ঢাকার বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানায় জুমার নামাজের পর শিশুদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই আয়োজন কেবল ক্ষুধা নিবারণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং শিশুদের প্রতি সমাজের দায়বদ্ধতা ও সহমর্মিতার বার্তাও পৌঁছে দিচ্ছে।

মাদ্রাসার কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, সপ্তাহের অন্যান্য দিনের তুলনায় শুক্রবার তাদের কাছে একটু আলাদা। জুমার দিন এলেই তারা অপেক্ষা করে বিশেষ খাবারের জন্য। 

এক শিক্ষার্থী জানায়, অনেক এতিম শিশু দীর্ঘদিন পর ভালো খাবার খাওয়ার সুযোগ পেয়েছে। সবাই এতে আনন্দিত। আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপ (এবিজি) ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের এমন উদ্যোগের প্রশংসা করে ওই শিক্ষার্থী বলেন, তিনি যেন সব সময় মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের পাশে থাকতে পারেন— এটাই তাদের প্রত্যাশা।

মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল লতিফ ফারুকী এবিজি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ শিশুদের শুধু খাবারের চাহিদাই পূরণ করে না, তাদের মানসিক বিকাশেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। সমাজে এখনো অনেক সহমর্মী মানুষ আছেন— এমন একটি বিশ্বাসও শিশুদের মধ্যে তৈরি হয়।

তিনি বলেন, সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে খাবার পেয়ে এতিম শিশুদের মুখে যে আনন্দের হাসি ফুটেছে, সেটি যেন আরও বিস্তৃত হয়। এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে— এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, কোনো আনুষ্ঠানিকতা কিংবা প্রচারের প্রত্যাশা ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে নীরবে মানবিক কাজ করে যাচ্ছেন সায়েম সোবহান আনভীর। তার উদ্যোগে শিক্ষার্থী ও এতিম শিশুদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হচ্ছে, যা সত্যিই প্রশংসনীয়।

তিনি আরও বলেন, এবিজি ফাউন্ডেশনের এই উদ্যোগ অত্যন্ত সুন্দর ও কল্যাণমূলক। ভবিষ্যতে প্রতিষ্ঠানটি আরও বড় পরিসরে মানুষের পাশে দাঁড়াবে বলে তারা আশাবাদী।


সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শীর্ষ শিল্পগোষ্ঠী আনভীর বসুন্ধরা গ্রুপের (এবিজি) চেয়ারম্যান সায়েম সোবহান আনভীরের উদ্যোগে নিয়মিত প্রতি শুক্রবার অন্তত ১ হাজার ৫০০ অসহায় মানুষ এবং ৫০০ এতিম শিশুর জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। এর পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসে সাহরি ও ইফতার বিতরণ, কোরবানির ঈদে মাংস বিতরণ, শীতবস্ত্র প্রদান এবং শিক্ষা সহায়তার মতো বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে এবিজি ফাউন্ডেশন।

ব্যবসায়িক সাফল্যের পাশাপাশি সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেও মানুষের পাশে থাকার এই কার্যক্রমকে গুরুত্ব দেন সায়েম সোবহান আনভীর। নিজের বিভিন্ন বিশেষ দিনেও সুবিধাবঞ্চিত ও এতিম শিশুদের জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন তিনি।

এবিজি ফাউন্ডেশনের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ গাজী বাদল বলেন, এবিজি ফাউন্ডেশন একটি সামাজিক ও কল্যাণমূলক প্রতিষ্ঠান। প্রতি সপ্তাহের ধারাবাহিকতায় আজও রাজধানীর চারটি মাদ্রাসায় এতিম ও অসহায় শিক্ষার্থীদের মাঝে মানসম্মত খাবার বিতরণ করা হয়েছে। সুবিধাবঞ্চিত মানুষ এবং এতিম ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে নিয়মিত খাবার বিতরণ করা হয়। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

ব্যবসায়িক পরিচয়ের বাইরে সায়েম সোবহান আনভীরের আরেকটি পরিচয়— নীরবে মানুষের পাশে দাঁড়ানো একজন দানশীল ব্যক্তি। তার মানবিক কর্মকাণ্ডের অনেকটাই প্রচারের আড়ালে থেকে যায়। যারা কাছ থেকে তার কর্মকাণ্ড দেখেছেন, তারাই জানেন সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য তার সহায়তার পরিধি কতটা বিস্তৃত।

মানুষের কল্যাণে ব্যক্তি উদ্যোগ থেকে প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রম—বিভিন্ন পর্যায়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার এই ধারাবাহিকতাই এবিজি ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে। আর সেই উদ্যোগে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে উঠছে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মুখের এক টুকরো হাসি।

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   এতিম  শিশু  এবিজি  ফাউন্ডেশন  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
বিবিধ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: