প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার (৯ আগস্ট) প্রথমবার চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন তারেক রহমান। একদিনের সফরে তিনি কক্সবাজার ও চট্টগ্রামে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন।
রোববার সকালে মহেশখালীর মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর, কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প ও মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (মিডা) কার্যক্রম পরিদর্শন করবেন। সেখান থেকে তিনি আসবেন বাঁশখালীর বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায়। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন।
এরপর ফটিকছড়িতে হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এসময় সংগঠনটির নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করবেন। পরে হাটহাজারীতে আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। সেখানেও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন। সন্ধ্যায় নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তিন উপজেলায় প্রশাসন ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। সেখানে তৈরি করা হয়েছে সাতটি ভেন্যু। প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী রোববার সকাল ৯টায় মহেশখালীতে পৌঁছে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করবেন। বেলা ১২টায় হেলিকপ্টারে বাঁশখালী উপজেলার বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত সংলগ্ন এলাকায় যাবেন। সেখানে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন অনুষ্ঠানে ্ত্রাণ বিতরণ করবেন। অনুষ্ঠানে ১০০ গৃহহারা পরিবারের হাতে নতুন বাড়ির চাবি তুলে দেওয়ার পরিকল্পনা আছে।
গেল শুক্রবার চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা অনুষ্ঠানস্থল, হেলিপ্যাড, নিরাপত্তাব্যবস্থা ও নির্মাণাধীন ঘরগুলো পরিদর্শন করেন। শনিবারও তিনি বিভিন্ন ভেন্যু এলাকা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন, প্রতিটি ভেন্যু ঘুরে দেখা গেছে। সার্বিক প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি,এসএসএফ কাজ করছে।
বন্যায় চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলার মধ্যে বাঁশখালী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিশেষ করে জেলে সম্প্রদায়ের মাটির ঘরে বসবাসকারী অনেক পরিবারের ঘর সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে। এসব পরিবারকে পুনর্বাসনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে নতুন ঘর নির্মাণ করা হচ্ছে।
বাঁশখালীর কর্মসূচি শেষ করে দুপুর ১টার দিকে ফটিকছড়িতে যাবেন প্রধানমন্ত্রী। ফটিকছড়ির পেলাগাজিতে অস্থায়ী হেলিপ্যাড নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। সফরসূচি অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী হেলিকপ্টারে পেলাগাজিতে অবতরণের পর প্রায় ১০ কিলোমিটার সড়ক পথে বাবুনগর মাদ্রাসায় যাবেন। তিনি হেফাজতে ইসলামের আমির আল্লামা শাহ মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এরপর হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় ও জেলা পর্যায়ের প্রায় ৫০ জন সিনিয়র নেতার সঙ্গে বিশেষ সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন।
ফটিকছড়ি থেকে সড়কপথে হাটহাজারীতে পৌঁছানোর কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। হাটহাজারীতে পৌঁছে আল–জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদ্রাসা যাবেন। সেখানে হেফাজতে ইসলামের প্রতিষ্ঠাতা আমির মরহুম আল্লামা শাহ আহমদ শফীর কবর জিয়ারত করবেন। এরপর মাদ্রাসা সংলগ্ন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের ডাকবাংলোয় কিছু সময় বিশ্রাম নেবেন। পরে হাটহাজারী সরকারি কলেজ মাঠে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন উপলক্ষে অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠান ঘিরে হাটহাজারী কলেজ মাঠে মঞ্চ তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা কাজ করছেন।
চট্টগ্রামের তিন উপজেলার সফর শেষ করে রোববার সন্ধ্যায় নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
সময়ের আলো/আতা