তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টায় দিনাজপুর সরকারি কলেজের হলরুমে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের রংপুর বিভাগীয় পর্যায়ের আন্তঃকলেজ ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন,‘মুরুব্বিরা’ যতদিন তাদের ক্ষমতায় রাখতে পারবেন, ততদিনই ক্ষমতায় থাকবেন—এমন ধারণা ছিল তাদের। কিন্তু ৫ আগস্টের পর সেই মুরুব্বিরাও আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারেনি। এরপর তারা সেই মুরুব্বিদের কাছেই আশ্রয় নিয়েছে।
শিক্ষাব্যবস্থা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিগত ২০ বছর যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা বিভিন্নভাবে দেশের শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন চাননি। কারণ, দেশের মানুষের ওপর তাদের আস্থা ছিল না। তরুণ প্রজন্মকে ভবিষ্যতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় প্রস্তুত করতে গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে জীবনমুখী ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা যাবে না। তাদের খেলাধুলা, প্রযুক্তি, ভাষা শিক্ষা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হবে মানুষ তৈরির ক্যাম্পাস, দলবাজির ক্যাম্পাস নয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি আমাদের পূর্ণ আস্থা রয়েছে।
তরুণদের সঠিকভাবে গড়ে তুলতে খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে নেওয়ার পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেন সমাজকল্যাণমন্ত্রী। একই সঙ্গে আনন্দঘন পরিবেশে শিক্ষা নিশ্চিত করা জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কার্যক্রমে যুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতরের উদ্যোগে আয়োজিত এ প্রতিযোগিতায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন কলেজের জেলা পর্যায়ে প্রথম স্থান ও স্বর্ণপদক পাওয়া ১ হাজার ১৫৪ জন শিক্ষার্থী-অ্যাথলেট অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ৭৫৪ জন ছাত্র ও ৪০০ জন ছাত্রী।
ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, কাবাডি, সাঁতার ও অ্যাথলেটিকসসহ মোট ৭২টি ইভেন্টে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তারা। তিন দিনব্যাপী এ প্রতিযোগিতা আগামী ৬ অক্টোবর ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। বিভাগীয় পর্যায়ে বিভিন্ন ইভেন্টে প্রথম হয়ে স্বর্ণপদক অর্জনকারীরা পরবর্তী সময়ে জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়া খাতে সরকার ব্যাপক পদক্ষেপ নিয়েছে। এগুলো সাময়িক কোনো পদক্ষেপ নয়; দীর্ঘদিনের গবেষণা ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ভিত্তিতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের ধরে রাখতে ক্রীড়া ভাতা চালু করা হয়েছে। ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর প্রথম রাউন্ডও সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রতিটি জেলায় ‘স্পোর্টস ভিলেজ’ এবং উপজেলায় স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খেলাধুলার সুযোগ বাড়ানোর মাধ্যমে তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
সময়ের আলো/এনএন