রাজশাহীর পুঠিয়ায় মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৬৪ শতাংশই ঘাটতি থাকায় ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বাচ্চাদের পড়াশোনা ও কৃষি কাজ। উপজেলায় সকাল থেকে রাত অবধি ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা পর পর বিদ্যুৎ আসলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হচ্ছে না। বিদ্যুৎ ব্যবস্থার এত বেশি অব্যবস্থাপনা হয়তো পুঠিয়া উপজেলা বাসী এর আগে কখনো দেখেনি।
বর্তমানে পুরো উপজেলা জুড়ে ধান চাষাবাদের কথা ছিল কিন্তু এই বিদ্যুৎ না থাকার ফলে কৃষকরা জমিতে পানি দিতে পারছেন না ধানের চারাও রোপণ করতে পারছেন না। কোথাও কোথাও বৃষ্টির কারণে তলিয়ে যাওয়ার ভয়ে পানি থাকায় কিছু জমিতে ধানের চারা রোপণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে বৃষ্টি না থাকায় কেউ কেউ শ্যালো মেশিন দিয়ে পানি তুলে জমি সার্চ দিয়ে ধান রোপণের চেষ্টা করছেন। আবার অনেক কৃষক শুকনো জমির আইল বেঁধে, জমি চাষ করে ফেলে রেখেছেন।
এছাড়াও অধিকাংশ জমি এখন পর্যন্ত অনাবাদি হয়ে পড়ে আছে। এছাড়াও পাশাপাশি যেখানে সন্ধ্যার পর বাচ্চাদের পড়াশোনা করার কথা ঠিক সেই মুহূর্তে বিদ্যুৎ না থাকায় খাবার খেয়ে ঘুমিয়ে পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। এতে করে মানুষের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সরেজমিনে বেশ কিছু বিদ্যালয় ঘুরেও দেখা গেছে বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে শিক্ষার্থীদের অবস্থা চরমে পৌঁছে গেছে। হলে ইতোমধ্যেই বেড়েছে গরম জনিত রোগ এবং পরিস্থিতি এমন থাকলে রোগীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া থেকে বাস্তবে রাগে ও ক্ষোভে ফুঁসছেন উপজেলা বাসী।
আব্দুল করিম নামের এক কৃষক বলেন, দুধ তো থাকছে না তাই বেশি অপেক্ষায় বসে আছি। তাই বৃষ্টি হলে ধান লাগাবো। এমন বহু কৃষক রয়েছেন তারাও এখন বিদ্যুতের আশা ছেড়ে দিয়ে বৃষ্টির পানির অপেক্ষায় রয়েছেন।
পুঠিয়া পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, উপজেলায় বিদ্যুতের চাহিদা ২২ মেগাওয়াট সেখানে পাওয়া যাচ্ছে ৮ মেগাওয়াট মাত্র। মোট ঘাটতি থাকছে ১৪ মেগাওয়াটের মতো। পাশাপাশি উপজেলা আবাসিকে ধৈর্য ধারণের জন্য অনুরোধ করেছেন পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১ এর পুঠিয়া জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আহসানুল করিম বলেন, ঢাকা থেকে লোডশেডিং এর কোন কিছু নেই নাটোরে এসে সেখান থেকে আমরা বিদ্যুতের লোডশেডিং পাচ্ছি। বুঝতে পারছি না কোথায় কি হচ্ছে।
সময়ের আলো/আতা