মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৪৮ জন সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে পদোন্নতির অনুমোদন প্রাপ্ত শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। ১৩ তম গ্রেডের সহকারী শিক্ষক থেকে ১১তম গ্রেডের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পেতে অধিদফতরে টাকা দেওয়ার জন্য এসব শিক্ষকের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কয়েকজন শিক্ষক।
জানা গেছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের আওতায় ২০২৩ সালে ১০ জেলার মধ্যে ১২ টি উপজেলার বেশ কিছু শিক্ষক পদোন্নতির জন্য অনুমোদন পায়। এই অনুমোদন প্রক্রিয়ায় পিএসসির মাধ্যমে গাংনী উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের মধ্যে ৪৮ জন শিক্ষক প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতি পান। এ পদোন্নতি প্রক্রিয়া করতে খরচ হয়েছে দাবি করে উপজেলার তেরাইল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক জাকিউল ইসলাম পদোন্নতি প্রাপ্ত শিক্ষকদের নিকট থেকে টাকা উত্তোলন করছেন।
গাড়াডোব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তসলিমা খাতুন জানান, পদোন্নতি প্রাপ্ত ৪৮ জন শিক্ষককে গাংনী উপজেলা মডেল মসজিদের সামনে ডেকে আলোচনা করেন তেরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকিউল ইসলাম। সেখানে তিনি জানান, পদোন্নতির জন্য তার টাকা খরচ হয়েছে, যা শিক্ষকদের দিতে হবে। পরে সহড়াবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিরুল ইসলামের হাতে ১ হাজার ৫০০ টাকা দেওয়া হয়।
করমদি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক নুরুল আলম অভিযোগ করে বলেন, পদোন্নতির জন্য টাকা লাগবে বলে অধিদফতরের সঙ্গে কথা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষকদের বলা হয় টাকা না দিলে পদোন্নতি আটকে যেতে পারে।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তেরাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকিউল ইসলাম বলেন, একটি পক্ষ তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। কারও কাছে কোনো টাকা দাবি করা হয়নি।
সহড়াবাড়ি পশ্চিমপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আমিরুল ইসলামের বক্তব্য জানতে কয়েকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন রিসিভ না করে, ফোন বন্ধ করে রাখেন।
বেশ কয়েকটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকরা জানান, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদে পদোন্নতির জন্য কোনো অর্থের প্রয়োজন হয় না। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই-বাছাই শেষে নিয়ম অনুযায়ী পদোন্নতি দেয়।
এ বিষয়ে মেহেরপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সুকুমার মিত্র বলেন, পিএসসির আওতায় পদোন্নতির কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সচিবালয়ে পাঠানো হয়েছিল। এখানে টাকা-পয়সা লেনদেনের কোনো সুযোগ নেই। কেউ অর্থনৈতিক লেনদেনের সঙ্গে জড়িত থাকলে অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা