ইয়াবা দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠার পর হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান সময়ের আলোকে জানান, তদন্তের স্বার্থে তাদেরকে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।
তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ অভিযান চালায়। তবে যেহেতু অভিযোগ উঠেছে তাই বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, চুনারুঘাট উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তাঁর মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ চলছিল। এরই জের ধরে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) তাদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগীদের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে একটি মামলায় আদালতে হাজিরা দিতে যাওয়ার পথে পুলিশের একটি দল তাদের আটক করে। পরে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা পাওয়া গেছে এমন অভিযোগ এনে চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন এসআই মাসুম আল-মামুন।
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন চুনারুঘাট থানার সামনে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ করেন। তাদের দাবি ছিল, ভুক্তভোগীদের হয়রানি না করে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করতে হবে। এ সময় বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। প্রায় সাত ঘণ্টা পর আটক তিনজনকে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে স্থানীয়রা জানান।
পরে ঘটনাটি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের স্বার্থে শুক্রবার সকালে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের রাস্তার বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের বিরুদ্ধে মাদক মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অভিযোগের সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সহাকারী পুলিশ সুপার জানান- অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/এনএন