কিশোর অপরাধ ও কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার ঠেকাতে চাঁদপুরের আট উপজেলায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩৭০ জনকে আটক করেছে জেলা পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর থেকে রাত পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনা এবং চাঁদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমানের দিকনির্দেশনায় জেলার সব থানা ও গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সদস্যদের সমন্বয়ে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
জেলা পুলিশ জানায়, কিশোর গ্যাং, উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধপ্রবণতা এবং জনশৃঙ্খলা বিঘ্নিতকারী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে জেলার গুরুত্বপূর্ণ ও অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের আটক করে তাদের বিষয়ে তথ্য যাচাই-বাছাই করা হয়।
রোববার রাত সোয়া ১১টার দিকে অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) নাদিয়া নূর। তিনি জানান, জেলার বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে মোট ৩৭০ জনকে আটক করা হয়েছে। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধে সম্পৃক্ততার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
নাদিয়া নূর বলেন, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েকজনের মাদক ও অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। যাচাই-বাছাই শেষে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তবে আটক সবাই অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন বলেও জানিয়েছে পুলিশ। যাদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তাদের অভিভাবকদের ডেকে সন্তানদের বিষয়ে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পরে অভিভাবকদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ কর্মকর্তারা বলেন, উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পেছনে পারিবারিক নজরদারির ঘাটতি, অপরাধপ্রবণ পরিবেশ ও বিভিন্ন ধরনের অনলাইন কার্যক্রমসহ নানা বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে। কিশোর অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবারকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, উঠতি বয়সি কিশোরদের সঠিকভাবে পরিচালনা, কিশোর অপরাধ প্রতিরোধ এবং কিশোর গ্যাংয়ের বিস্তার রোধে অভিভাবকদের আরও সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। জনশৃঙ্খলা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সময়ের আলো/জেডি