দেড় লাখ মানুষের ভরসার হাসপাতালে সংকটের স্তূপ

বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় চলছে চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট,

2026-09-28T09:47:27+00:00
2026-09-28T09:47:27+00:00
 
  সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১৩ আশ্বিন ১৪৩৩
সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
দেড় লাখ মানুষের ভরসার হাসপাতালে সংকটের স্তূপ
বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৯:৪৭ এএম 
বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। ছবি : সময়ের আলো
নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো ও ব্যবস্থাপনায় চলছে চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনায় ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালটির স্বাভাবিক কার্যক্রম। এক্স-রে যন্ত্র থাকলেও প্রায় দেড় মাস ধরে ফিল্মের অভাবে বন্ধ পরীক্ষা। প্যাথলজি বিভাগেও প্রয়োজনীয় কেমিক্যাল ও জনবলের সংকট রয়েছে। আবার জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে অন্ধকার ও গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে ভর্তি রোগীদের।

সরেজমিনে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘুরে এসব চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী লালপুর, আড়ানীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষও চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালের ওপর নির্ভর করেন। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সরকারি এ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন রোগী ও স্বজনরা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ফিল্মের সংকটের কারণে প্রায় দেড় মাস ধরে এক্স-রে পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে এক্স-রে করতে আসা রোগীদের তাই বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।

সরেজমিনে হাসপাতালের এক্স-রে কক্ষে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে তালা ঝুলছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রায় দেড় মাস ধরে এক্স-রে ফিল্মের বরাদ্দ না থাকায় পরীক্ষা বন্ধ রয়েছে।


প্যাথলজি বিভাগেও রয়েছে জনবল ও প্রয়োজনীয় উপকরণের সংকট। বিভাগের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী সেখানে মাত্র দুজন কর্মী দায়িত্ব পালন করছেন। রোগীদের রক্ত ও প্রস্রাবসহ বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ, রেজিস্টারে তথ্য লিপিবদ্ধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং রিপোর্ট প্রস্তুতের কাজ তাদেরই করতে হচ্ছে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করা হয়। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় চাহিদা অনুযায়ী সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর পাশাপাশি ডায়াবেটিস ও রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কেমিক্যালেরও সংকট রয়েছে।

হাসপাতালের নতুন ভবনের প্রবেশপথেও দেখা গেছে অব্যবস্থাপনার চিত্র। ভবনের বাম পাশে ইটের দেয়াল ঘেঁষে টয়লেটের নোংরা পানি জমে আছে রাস্তায়। এতে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি রোগী, স্বজন ও কর্মীদের চলাচলে দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় পানি নিষ্কাশনের স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না।

নতুন ভবনের সিঁড়ির নিচে পড়ে থাকতে দেখা যায় একটি নতুন জেনারেটর। হাসপাতাল সূত্র জানায়, পরীক্ষামূলকভাবে একদিন জেনারেটরটি চালু করা হয়েছিল। এরপর জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় আর চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় ভর্তি রোগীদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে।

অন্যদিকে, হাসপাতালের পশ্চিম পাশে গ্যারেজে দুটি অ্যাম্বুলেন্স রাখা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে অ্যাম্বুলেন্স চালকের সংকট রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির চালক রাকিব একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সও চালাচ্ছেন। ফলে জরুরি প্রয়োজনে অ্যাম্বুলেন্স পাওয়া এবং তাৎক্ষণিকভাবে রোগী পরিবহন নিয়ে সমস্যায় পড়তে হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা মাড়িয়া গ্রামের মনোয়ারা বেগম জানান, তার ছেলেকে নিয়ে হাসপাতালে এলে চিকিৎসক তাকে ডায়াবেটিস পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেন। কিন্তু প্যাথলজি বিভাগে গিয়ে জানতে পারেন, সেখানে এ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। পরে বাধ্য হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা করাতে হয়েছে।

মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘ডায়াবেটিসের মতো সাধারণ একটি পরীক্ষাও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করা যায় না। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত খরচের পাশাপাশি অসুস্থ রোগীদের বারবার যাতায়াত করতে হয়।’

গালিমপুর গ্রামের তোসাদ্দেক সরকার এক রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। তিনি বলেন, ‘চিকিৎসক রোগীকে এক্স-রে করিয়ে আনতে বলেন। পরে জানতে পারি, হাসপাতালে এক্স-রে সেবা চালু নেই। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে এক্স-রে করাই। রিপোর্ট নিয়ে হাসপাতালে ফিরে আসতে দুপুর পার হয়ে যায়। পরে এসে দেখি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক আর নেই। ফলে রোগীকে নিয়ে আবার পরদিন আসতে হবে।’

এসব সংকটের বিষয়ে জানতে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত রেজওয়ানুল হকের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, ‘স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সমস্যাগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে এ বিষয়ে মন্তব্য করা যাবে। তবে এক্স-রে ফিল্মসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সরঞ্জাম অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হয়।’

তিনি বলেন, ‘এ প্রক্রিয়ার কারণে অর্থবছরের শুরুর দিকে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। আশা করছি, দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।’

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   দেড় লাখ মানুষের ভরসার হাসপাতালে সংকটের স্তূপ 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: