বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার ইউনিয়ন ভূমি অফিসগুলো যেন ঘুষের কারখানায় পরিণত হয়েছে। ভূমি সংক্রান্ত কিছু ত্রুটি ছাড়াও বকেয়া খাজনা (ভূমি উন্নয়ন কর) পরিশোধের ক্ষেত্রেও ঘুস দিতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ সেবাগ্রহীতাদের। এর মধ্যে প্রায় চার লাখ টাকার বকেয়া খাজনা মাত্র ছয় হাজার টাকায় দফারফা করার জন্য এক লাখ টাকা ঘুস নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনের বিরুদ্ধে।
এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, গত ৭ সেপ্টেম্বর আলেফ উদ্দিন নামের এক দলিল লেখক ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তা আয়েশা খাতুনকে ঘুস দিচ্ছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সরকার ভূমি সংক্রান্ত জটিলতা দূর করতে কয়েক বছর আগে ডিজিটাল ব্যবস্থা চালু করেছে। সবকিছু অনলাইনে করা হলেও ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদন বাধ্যতামূলক করে রাখা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তারা অফিসগুলোকে ঘুষের কারখানায় পরিণত করেছেন। নামজারি ও খাজনা আদায়ে ঘুস ছাড়া কোনো সেবা মেলে না। উপজেলার সব ইউনিয়নেই কমবেশি এমন অবস্থা চলছে— কোথাও দালালের মাধ্যমে, আবার কোথাও কর্মকর্তা নিজেই চুক্তির মাধ্যমে লেনদেন করছেন। এর মধ্যে চাঁপাপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোসা. আয়েশা খাতুনের নাম ভুক্তভোগী ভূমি মালিক ও এলাকার জনপ্রতিনিধিদের মুখে মুখে আলোচিত হচ্ছে।
জানা গেছে, ওই ইউনিয়নের ঝাঁখর মৌজার ১৭৯৪ দাগের ১ একর ৯০ শতক পুকুর (কৃষি-২) শ্রেণির জমির ৪৯ বছরের খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন কর ও জরিমানাসহ বকেয়ার পরিমাণ ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯০৭ টাকা। গত ২৩ সেপ্টেম্বর তারিখের কর প্রদত্ত অনলাইন রসিদে ওই বকেয়া ও জরিমানার পরিমাণ উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি হাল দাবি দেখানো হয়েছে ৭ হাজার ৬০০ টাকা। আবার আদায় বিবরণে ৩ বছরের ঊর্ধ্বে বকেয়া ৩ হাজার ১৪৩ টাকা, গত ৩ বছরের বকেয়া ১ হাজার ২২২ টাকা, বকেয়ার জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ ১ হাজার ৮৩৪ টাকা এবং হাল দাবি ৩৮০ টাকা— সব মিলিয়ে ৬ হাজার ৫৬৯ টাকা দেখানো হয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁপাপুর ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মোসা. আয়েশা খাতুন ঘুষের বিনিময়ে ভূমি উন্নয়ন কর, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ কমিয়ে দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, অনলাইন ব্যবস্থায় এটি করা কোনোভাবেই সম্ভব নয়।
তিনি আরও বলেন, অনলাইন সফটওয়্যার চালুর সময় পুরো তথ্যাদি দেওয়া হয়েছে। তবে কাগজপত্র যাচাই করে দেখা গেছে, ওই ভূমির বেশ কিছু পরিমাণ কর আগেই পরিশোধ করা হয়েছিল। কাগজপত্র যাচাই ও নীতিমালা মোতাবেক বকেয়া ভূমি উন্নয়ন কর, জরিমানা ও ক্ষতিপূরণ আদায় করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ঘুস লেনদেনের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট।
চাঁপাপুর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হিটলু বলেন, এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে তিনি একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
সময়ের আলো/আতা