সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সদ্য গঠিত ‘মক্কা জয়েন্ট ডিটারেন্স অ্যাগ্রিমেন্ট’ জোটে আরও দেশকে যুক্ত করতে চায় তুরস্ক। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান জানিয়েছেন, প্রেসিডেন্ট রজব তইয়্যব এরদোয়ানের পরিকল্পনা অনুযায়ী তিন দেশের মধ্যে জোট সীমাবদ্ধ থাকবে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান এ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে সই করে। চুক্তি অনুযায়ী, তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর বাইরের কোনো সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে আক্রান্ত দেশকে কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে, তার বিস্তারিত কাঠামো এখনো নির্ধারিত হয়নি।
তুরস্ক জানিয়েছে, চুক্তিটি কোনো নির্দিষ্ট দেশের বিরুদ্ধে নয় এবং ইরানকে লক্ষ্য করেও এটি করা হয়নি।
সম্ভাব্য নতুন সদস্য কারা?
নতুন সদস্য হিসেবে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে মিসর, কাতার ও কুয়েত। এর বাইরে বাহরাইন, ওমান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানের নামও সম্ভাব্য অংশীদার হিসেবে উঠে এসেছে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান মিসরকে জোটের ‘স্বাভাবিক অংশীদার’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার আশা, কিছু কারিগরি বিষয় সমাধানের পর মিসর জোটে যোগ দেবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, বিদ্যমান জোট ও আঞ্চলিক বিরোধের কারণে মিসরকে সিদ্ধান্ত নিতে সতর্ক হতে হবে। বিশেষ করে চুক্তির কারণে অন্য কোনো দেশের সংঘাতে সামরিকভাবে জড়িয়ে পড়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি হলে কায়রো পিছিয়ে যেতে পারে।
উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে কাতার ও কুয়েতকে সবচেয়ে সম্ভাব্য নতুন সদস্য হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা। তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের সঙ্গে দুই দেশেরই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের পর নিজেদের নিরাপত্তায় অতিরিক্ত নিশ্চয়তা পেতেও তারা আগ্রহী হতে পারে।
আজারবাইজান, সিরিয়া ও জর্ডানের নামও সম্ভাব্য সদস্য হিসেবে আলোচনায় রয়েছে। তবে এসব দেশের সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে তাদের নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থ, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং বিদ্যমান জোট ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর।
বিশ্লেষকদের মতে, শুরুতে এটি ন্যাটোর মতো কঠোর সামরিক জোটের পরিবর্তে নমনীয় আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামো হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।
তবে মিসর, কাতার, কুয়েতসহ আরও কয়েকটি দেশ যুক্ত হলে মধ্যপ্রাচ্য ও বৃহত্তর মুসলিম বিশ্বের নিরাপত্তা সমীকরণে এর প্রভাব বাড়তে পারে।
সময়ের আলো/কেএইচও