ভারতের মহারাষ্ট্রে নারীদের জন্য চালু করা ‘মুখ্যমন্ত্রী মাঝি লাড়কি বহিন যোজনা’ প্রকল্পে অনিয়মের চিত্র সামনে এসেছে। সরকারি যাচাইয়ে প্রকল্পের সুবিধাভোগীর তালিকা থেকে প্রায় ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার পুরুষের নামও রয়েছে।
২০২৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে চালু হওয়া এ প্রকল্পের আওতায় যোগ্য নারীরা প্রতি মাসে দেড় হাজার রুপি করে পান। এর সুবিধাভোগীর সংখ্যা আড়াই কোটির বেশি।
সম্প্রতি ভারতের জাতীয় হিসাব নিরীক্ষক সংস্থার প্রতিবেদনে প্রকল্পটির আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মহারাষ্ট্রের নারী ও শিশু উন্নয়ন বিভাগ অনুমোদিত বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৫ হাজার কোটি রুপি বেশি ব্যয় করেছে। প্রকল্পের প্রথম অর্থবছরেই ৩৩ হাজার কোটি রুপির বেশি খরচ হয়েছে।
যাচাই-বাছাইয়ের পর বাদ পড়া প্রায় ৯০ লাখ সুবিধাভোগীর বড় একটি অংশ বাধ্যতামূলক ই-কেওয়াইসি সম্পন্ন করতে পারেননি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, তালিকায় প্রায় ২৯ হাজার পুরুষের পাশাপাশি প্রায় ৮ হাজার সরকারি কর্মচারীর নামও পাওয়া গেছে। অযোগ্যদের কাছ থেকে দেওয়া অর্থ ফেরত নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী অদিতি তাতকারে বিষয়টিকে সরাসরি জালিয়াতি হিসেবে দেখতে নারাজ।
বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের আগে চালু হওয়া এই প্রকল্প ক্ষমতাসীন মহাযুতি জোটের নির্বাচনী সাফল্যে ভূমিকা রেখেছিল। তবে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, নগদ অর্থ বিতরণের বদলে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও শিশুযত্নের মতো দীর্ঘমেয়াদি জনসেবায় বিনিয়োগ করা বেশি কার্যকর। এতে রাজ্যের কোষাগারের ওপরও চাপ কমবে।
সময়ের আলো/কেএইচও