চলমান বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়াতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। আগামী ১০ নভেম্বর এই যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে একটি বড় পরিসরের বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়ার উদ্দেশ্যেই দুই দেশ এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
এমন সিদ্ধান্তের কয়েক ঘণ্টা আগে চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেংয়ের সঙ্গে চার দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার বৈঠক করেন তিনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৃহস্পতিবারের বৈঠকের প্রস্তুতি হিসেবে এ আলোচনা হয়।
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানানো হয়েছে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী বেসেন্টের বরাত দিয়ে সংস্থাটি জানায়, দুই দেশের মধ্যে খণ্ডিত বা ছোট ছোট একাধিক সমঝোতার পরিবর্তে একটি বড় এবং দীর্ঘস্থায়ী চুক্তি করা সম্ভব কি না, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়েছে। গত মে মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার বুসানে হওয়া সমঝোতার ধারাবাহিকতায় যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দুই মাস বাড়ানোর ফলে অর্থনৈতিক নানা জটিল বিষয় নিয়ে আরও গভীরভাবে আলোচনা করার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।
তবে আগামী ১০ জানুয়ারির মধ্যে একটি বড় ও চূড়ান্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করা সম্ভব হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও পুরোপুরি নিশ্চিত নন বলে জানান বেসেন্ট। একই সঙ্গে, বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তির আওতায় চীন যেন তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো আরও পূর্ণাঙ্গ ও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করে, সে বিষয়ে বেইজিংয়ের ওপর চাপ অব্যাহত রাখার কথা স্পষ্ট করেন তিনি।
বেসেন্টের বরাত দিয়ে রয়টার্স আরও উল্লেখ করে, চীন বর্তমানে তাদের আড়াই কোটি টন সয়াবিন কেনার প্রতিশ্রুতি সফলভাবে রক্ষা করে চলেছে। তবে অন্যান্য মার্কিন কৃষিপণ্য আমদানির ক্ষেত্রে ১৭ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতির তুলনায় দেশটির অগ্রগতি কিছুটা কম। এছাড়া মার্কিন কর্মকর্তাদের অভিযোগ অনুযায়ী, সম্প্রতি চীনের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা বিরল মাটির খনিজের পরিমাণও তাদের প্রত্যাশার তুলনায় বেশ কম রয়েছে।
পরবর্তীতে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ৩০ বিলিয়ন ডলারের অপ্রধান পণ্যের ওপর থেকে শুল্ক প্রত্যাহার, আর্থিক খাতের সেবা এবং কৃষিপণ্য কেনাকাটাসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বড় ধরনের ঘোষণা আসতে পারে বলে মার্কিন অর্থমন্ত্রী ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।
সময়ের আলো/আতা