রাজধানীর উত্তরায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মচারীর কাছ থেকে ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া প্রতিষ্ঠানটির ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাই হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত রোববার (৯ আসস্ট) সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে ক্রাউন প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে ছিনতাই ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পরও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ জানায়, সিসি ক্যামেরা ফুটেজ পাওয়া গেলেও মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট অস্পষ্ট থাকায় মালিককে শনাক্ত করা যাচ্ছে না। তবে ছিনতাইকারীদের ধরতে পুলিশ-র্যাবসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে নেমেছে।
ডিএল ফিলিং স্টেশন নামের ওই পাম্পের মালিক প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খালাতো ভাই তাসীন আক্তার হক ও ইয়াসিন নামে দুজন। তাসীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় বোন সাবেক মন্ত্রী খুরশীদ জাহান হকের ছোট ছেলে।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তিনটি মোটরসাইকেলে আসা ৬ জন ব্যক্তি টাকা বহনকারী গাড়ির গতিরোধ করে। পরে গাড়িতে ধাক্কা দিয়ে সেটি থামিয়ে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।
এ ঘটনায় পেট্রোল পাম্পের ম্যানেজার করিম বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বিমানবন্দর থানায় মামলা করেছেন। ছিনতাই হওয়া টাকা ডিএল পেট্রোল পাম্পের বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
পেট্রোল পাম্প-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ডিএল পেট্রোল পাম্পে প্রতিদিন প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ লাখ টাকা লেনদেন হয়। নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিদিনের বিক্রির টাকা সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো। শুক্র ও শনিবার ব্যাংক বন্ধ থাকায় ওই দুদিনের টাকা পরবর্তী কর্মদিবস রোববার একসঙ্গে ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়। ফলে রোববার তুলনামূলক বেশি টাকা ব্যাংকে নেওয়া হয়।
রোববারও নিয়ম অনুযায়ী পেট্রোল পাম্পের টাকা ব্যাংকে জমা দিতে নেওয়া হচ্ছিল। সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে উত্তরা র্যাব-১ ব্যাটালিয়নের দক্ষিণ পাশে পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি গাড়িটির গতিরোধ করে। পরে তারা গাড়িতে ধাক্কা দেয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলার পর টাকার ব্যাগ নিয়ে দ্রুত মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যায়।
মামলায় ছিনতাই হওয়া টাকার পরিমাণ ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্ত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে পেট্রোল পাম্পের টাকা একই সময়ে একই গাড়িতে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটির অদূরে পূবালী ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য নেওয়া হতো। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে টাকা নিয়ে ব্যাংকের উদ্দেশে রওনা হওয়ার বিষয়টি ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই জানত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
বিশেষ করে রোববার শুক্র ও শনিবারের দুদিনের টাকা একসঙ্গে ব্যাংকে নেওয়া হবে এ তথ্য দুর্বৃত্তদের কাছে আগে থেকেই ছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে টাকা বহনের নির্দিষ্ট সময় ও রুট সম্পর্কে কেউ তথ্য সরবরাহ করেছিল কি না, তা-ও তদন্ত করা হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত ছিনতাইয়ে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের নম্বরও শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
ছিনতাই হওয়া টাকা উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক ইউনিট তদন্ত করছে।
এ বিষয়ে বিমানবন্দর থানার ওসি কামরুল হাসান তালুকদার সময়ের আলোকে বলেন, ঘটনা তদন্তে পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, ডিবিসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা মাঠে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, সম্ভাব্য সব বিষয় সামনে রেখে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসি ক্যারেয়ায় ধারণকৃত ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, অস্পষ্টতা থাকায় মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেট শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে শিগগিরই অপরাধীদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানান তিনি।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে