সম্প্রতি তুরস্ক ছাড়ার সময় বেশ নাটকীয় কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সে সময় ক্যামেরার সামনে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠলেও পরে গোপনে বিমানবন্দরের খাবার সরবরাহকারী একটি ট্রাকে করে তাকে অন্য একটি সামরিক বিমানে নেওয়া হয়। সেখান থেকে বিমানে করে যুক্তরাজ্যে যান ট্রাম্প। মূলত ওই সময় ইরানের হুমকির কারণে এমন কৌশলের আশ্রয় নিয়েছিলেন তিনি।
এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট। স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানের হুমকির কারণে গত মাসে তুরস্ক থেকে গোপনে একটি সামরিক বিমানে করে যুক্তরাজ্যে গিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অথচ ওই সময় হোয়াইট হাউস জানিয়েছিল, তিনি এয়ার ফোর্স ওয়ানেই রয়েছেন।
সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন একটি বিমান নিয়ে আঙ্কারায় গিয়েছিলেন। কিন্তু তুরস্ক ছাড়ার সময় তিনি হঠাৎ পুরোনো একটি এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠেন। এ ঘটনায় নতুন বিমানটির নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্পের এই সফরই ছিল নতুন বিমানটিতে তার প্রথম আন্তর্জাতিক সফর। ওই সময় তুরস্কের প্রতিবেশী দেশ ইরানকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও বাড়ছিল।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর গোপনে বিমানবন্দরের একটি খাবার সরবরাহকারী ট্রাকে করে তাকে অন্য একটি ছোট বিমানে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই বিমানটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর সি-৩২এ। এ বিষয়ে অবগত এক মার্কিন কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্টের সফর সম্পর্কে জানেন এমন আরেক ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
পরে ট্রাম্পকে নিয়ে সি-৩২এ বিমানটি যুক্তরাজ্যের উদ্দেশে রওনা হয়। রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে বিমানটি সেখানে পৌঁছায়। এর কয়েক মিনিট পর পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান এবং গণমাধ্যমকর্মীরাও সেখানে পৌঁছান বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্প এর আগে তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে জানিয়েছিলেন, আঙ্কারা থেকে যুক্তরাজ্যের আরএএফ মিলডেনহল ঘাঁটিতে যাওয়ার জন্য তিনি পুরোনো হালকা নীল রঙের এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন, ‘পুরোনো দিনের কথা মনে করে’। একই সময়ে নতুন বিমানটিও ওই ঘাঁটিতে যাওয়ার কথা ছিল, যাতে সেখানে থাকা মার্কিন সেনারা বিমানটি ঘুরে দেখতে পারেন।
তবে গোপনে তৃতীয় একটি বিমানে ট্রাম্পের যাত্রার বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চেউংয়ের দেওয়া একটি বিবৃতি পাঠায়। বিবৃতিতে বলা হয়, কাতারের দেওয়া নতুন বিমানটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চমাত্রার নিরাপত্তাব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।
চেউং বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু তাকে টার্গেট করেছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা ব্যবহার করি।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনও মন্তব্য করেনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দফতর পেন্টাগন।
সময়ের আলো/আআ