নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় ১৫ জন শিক্ষকের ১৮ জন শিক্ষার্থী। এরমধ্যে এসএসসিতে অংশগ্রহণ করে ১৭ জন। এদের মধ্য থেকে ১ জন পাস করেছে এবং অপর আরেক শিক্ষার্থী পরীক্ষাই অংশগ্রহণ করেনি। বাকি ১৬ জন শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় ফেল করেছে। সোমবার (১১ আগষ্ট) ফল প্রকাশের পর এ তথ্য জানা যায়।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) উপজেলার উমার ইউনিয়নের বেলঘরিয়া এলাকার এক বাসিন্দারা জানান, ‘দিন যত যাচ্ছে শিক্ষার্থীরা উগ্র হয়ে উঠছে। শিক্ষকরা শাসন করলে ছাত্রছাত্রীরা শিক্ষকদের উপর চড়াও হয়ে ওঠে। মাদ্রাসায় ঠিকঠাক না গিয়ে মোবাইলে গেম নিয়ে পড়ে থাকলে এমন রেজাল্ট তো হবেই।’ সন্তানরা কি করছে সেদিকে নজর না দেওয়ায় এর জন্য অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকে দায়ী করেন এই স্থানীয়।
উপজেলা শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এবছর স্কুল পর্যায়ে এসএসসি পরীক্ষায় ১৬১৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, এদের মধ্যে পাশ করেছে ৯৪৯ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৯ জন, অকৃতকার্য হয়েছে ৬৬৬ জন, পাশের হার ৫৮ পয়েন্ট ৭৬।
এছাড়াও মাদ্রাসা পর্যায়ে ৬২৫ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, পাশ করেছে ২৭৭ জন, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ জন, অকৃতকার্য হয়েছে ৩৪৮ জন, পাশের হার ৪৪ পয়েন্ট ৩২। ভোকেশনাল পর্যায়ে-১১৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে, এদের মধ্যে পাশ করে ৯৬ জন শিক্ষার্থী, জিপিএ-৫ পেয়েছে ৪, ফেল করেছে ২২ জন শিক্ষার্থী, পাশের হার ৮১ পয়েন্ট ৩৫।
মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা জানায়, ‘এই এলাকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসে না ক্লাসও করেনা। স্যারেরা বরং শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মাদ্রাসায় এনে ক্লাস করায়।’ বড়োদের এভাবে রেজাল্ট খারাপ হওয়ায় মাদ্রাসার মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে দাবি তাদের।
অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে উমার ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড কয়রাপারা গ্রামের আবতাব হোসেনের ছেলে জাহিদ হাসান জানায়, ‘গণিত পরীক্ষায় টিক চিহ্নে সমস্যা হয়েছিল। এছাড়াও ওই দিন আধা ঘন্টার জন্য ইউএনও স্যার আমার খাতা জব্দ করে রেখেছিলেন। এ কারণে হয়তো পাস না করে ফেল করেছি।’
অভিভাবক জোসনা বেগম বলেন, ‘আমার ছেলে আবতাবের ওই মাদ্রাসায় ২ নম্বর রোল ছিল। কিন্তু কি কারনে সে ফেল করেছে তা তো ঠিক বুঝে উঠতে পারছি না।’ তবে সারাদিন মোবাইল ফোনে ইন্টারনেট আর গেম খেলার কথা স্বীকার করেন আবতাবের মা।
বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসার সহকারী প্রধান শিক্ষক খাইরুল ইসলাম বলেন, ‘সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ার কারণে এ এলাকার শিক্ষার্থীরা নিয়মিত মাদ্রাসায় আসেনা। অভিভাবকেরা তাদেরকে মাঠে ঘাটে কাজ করিয়ে নেয়। একারণে শিক্ষকেরা প্রায় সময় বাড়ি বাড়ি গিয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে এনে পাঠদান করাতে হয়। এছাড়াও মোবাইল ফোনের আসক্তির পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবে রেজাল্টের এমন বিপর্যয় ঘটেছে।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শেখ মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, গতবছরের চাইতে এবার সকল বিভাগেই ছাত্র-ছাত্রীদের রেজাল্ট খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে বেলঘরিয়া দাখিল মাদ্রাসায় মাত্র একজন শিক্ষার্থী পাশ করেছে যা দুঃখজনক। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
সময়ের আলো/এসএকে