৪৪ শিক্ষার্থী ৩০ শিক্ষক, পাস করেনি কেউ

বেনাপোল প্রতিনিধি

সারাদেশ

যশোরের শার্শায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪ জন শিক্ষার্থী

2026-08-11T19:59:36+00:00
2026-08-11T19:59:36+00:00
 
  মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬,
২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
৪৪ শিক্ষার্থী ৩০ শিক্ষক, পাস করেনি কেউ
বেনাপোল প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬, ৭:৫৯ পিএম 
ছবি : সময়ের আলো
যশোরের শার্শায় চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে হতাশাজনক চিত্র দেখা গেছে। উপজেলার তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ৪৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিলেও কেউই পাস করতে পারেনি। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানে ওই শিক্ষার্থীদের পাঠদানে নিয়োজিত ছিলেন ৩০ জন শিক্ষক।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দাখিল পরীক্ষায় শার্শার ৩৩টি মাদরাসার মধ্যে বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসা ও ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসার কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। এ দুটি মাদরাসায় মোট ৪০ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়ে সবাই অকৃতকার্য হয়েছে।

অন্যদিকে, সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের অধীনে সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া চারজন শিক্ষার্থীর কেউই পাস করতে পারেনি। এই তিন প্রতিষ্ঠানে মোট ৪৪ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৩০ জন।

সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে চারজন পরীক্ষার্থীর পাঠদানে ৯ জন শিক্ষক রয়েছেন। বারোপোতা সিদ্দিকীয়া দাখিল মাদরাসায় ১৭ জন পরীক্ষার্থীর জন্য শিক্ষক রয়েছেন ১২ জন। আর ঘিবা দারুল উলুম দাখিল মাদরাসায় ২৩ জন পরীক্ষার্থীর বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন ৯ জন। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর এমন অনুপাতের পরও কোনো শিক্ষার্থী পাস না করায় স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

এই তিন প্রতিষ্ঠানে শতভাগ ফেল করার ঘটনায় শিক্ষক-অভিভাবকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ উঠেছে। অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, শিক্ষকদের দায়িত্বহীনতা, নিয়মিত প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত না থাকা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ও ব্যবসায়িক কাজে মনোযোগের কারণে শিক্ষার পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পরিচালনা কমিটিতে রাজনৈতিক প্রভাব এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহির অভাবও এর জন্য দায়ী বলে তারা মনে করেন।


তবে শিক্ষকদের দাবি, শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি ও অভিভাবকদের উদাসীনতার কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। প্রতিষ্ঠান থেকে বারবার অভিভাবকদের জানানো হলেও তারা সন্তানদের পড়াশোনার বিষয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখেননি বলে দাবি তাদের।

শার্শা উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার এ.কে.এম. নুরুজ্জামান বলেন, সম্প্রতি এমপিওভুক্ত হওয়া কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আগের বছরের তুলনায় এবার অনেক খারাপ ফল করেছে।

তিনি বলেন, ‘শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফল অত্যন্ত দুঃখজনক ও হতাশাজনক। বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। কী কারণে এমন ফল হয়েছে, তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে।’

শার্শা উপজেলা অতিরিক্ত মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার এস.এম. সুলতান মাহমুদ মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) উপজেলার ফলাফলের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

সময়ের আলো/এসএকে


  বিষয়:   শিক্ষার্থী  শিক্ষক  পাস  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: