বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিনিয়ত বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। তবে প্রয়োজনীয় জনবল সংকটের কারণে হাসপাতালের সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। ফলে রোগীদের বাধ্য হয়ে নিজেদের উদ্যোগে বাইরে থেকে এসব পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসকসহ প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ এবং দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
সরেজমিনে জানা গেছে, উপকূলীয় বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে ১৬টি ইউনিয়ন ও পৌর শহরের প্রায় ৫ লাখ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার একমাত্র ভরসা ৫০ শয্যার এই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি। এই বিশাল জনপদের চিকিৎসাসেবায় হাসপাতালটিতে কর্মকর্তা পদসহ ৫১ জন মেডিকেল অফিসারের অনুমোদন থাকলেও বর্তমানে আছেন মাত্র ১৫ জন। এর মধ্যে ৭ জন চিকিৎসক অন্য উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রেষণে এবং ১ জন সাময়িক বহিষ্কৃত রয়েছেন। ফলে বর্তমানে মাত্র ৬ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে এই হাসপাতালের কার্যক্রম। সম্প্রতি ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়ায় হাসপাতালে রোগীর ভিড়ও ক্রমাগত বাড়ছে।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত নারী, পুরুষ ও শিশু-কিশোর মিলিয়ে হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ১৫ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। এর আগেও রোগীর সংখ্যা আরও বেশি ছিল, যাদের অনেকেই চিকিৎসা নিয়ে কিছুটা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের নিয়ম অনুযায়ী দিনে এক থেকে দুইবার রক্ত পরীক্ষা করাতে হয়। অথচ হাসপাতালে টেকনিক্যাল জনবল না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। তাদের নিজস্ব খরচে প্রাইভেট ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে রক্ত পরীক্ষা করাতে হচ্ছে, যার ফলে হতদরিদ্র মানুষদের বাড়তি খরচের বোঝা টানতে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, টাইফয়েড, ব্লাড গ্রুপিং, প্রস্রাব পরীক্ষা, ডায়াবেটিস, ডেঙ্গু, আলট্রাসনোগ্রাফি এবং এক্স-রে টেকনিশিয়ানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদগুলো শূন্য থাকায় সব ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বন্ধ রয়েছে। আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন সচল থাকলেও টেকনিশিয়ানের অভাবে তা কোনো কাজে আসছে না। আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে টেকনিশিয়ানরা গত আগস্টের শেষ ও সেপ্টেম্বরের শুরুতে অন্যত্র বদলি হয়ে যাওয়ায় এই দুটি সেবামূলক পরীক্ষাও পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
কালিকাবাড়ী গ্রামের রিনা বেগম, গুয়াবাড়িয়া গ্রামের মিম, রুপা আক্তার, সুনিতা রানী মণ্ডল, শিমুল, নবীন, আসলাম হাওলাদার ও আউয়াল শিকদারসহ চিকিৎসাধীন কয়েকজন ডেঙ্গু রোগী জানান, তারা গত দুই-তিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং চিকিৎসকরা নিয়মিত দেখছেন। কিন্তু ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোর জন্য নদীর ওপারে গিয়ে নিজের টাকায় পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। কারও কারও দিনে দুইবার পরীক্ষা করাতে ৮০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে। হাসপাতালে এই পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে কষ্ট করে নদী পার হতে হতো না এবং অতিরিক্ত টাকাও খরচ হতো না। গরিব মানুষের জন্য এই খরচ চালানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই হাসপাতালে দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালুর জন্য সরকারের উচ্চপদস্থ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
হাসপাতালে দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়া হক বলেন, গত এক সপ্তাহ ধরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। বর্তমানে ১৫ জন রোগী ভর্তি আছেন এবং তাদের সর্বক্ষণিক চিকিৎসা ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীদের সাময়িকভাবে বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।
মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মো. সিফাত খান জানান, তিনি চলতি মাসের ৮ তারিখে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। জনবল সংকটের বিষয়টি দ্রুত সমাধানের জন্য চাহিদাপত্র পাঠিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে।
সময়ের আলো/আতা