বাঁশখালীতে আপন ছেলে-মেয়ের লাঠির আঘাতে মো. শাহজাহান (৪০) নামের এক ব্যক্তি নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার রাত ১১টায় উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের কোকদণ্ডী গ্রামের নিদা গাজীর বাড়িতে এ ঘটনা ঘটেছে। নিহত শাহজাহান মৃত নুরুল আলমের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পাকা বাড়ি নির্মাণের জন্য মো. শাহজাহান তার ওমান প্রবাসী ছেলে মো. বোরহান মিয়া প্রকাশ শওকতের (২৪) পরামর্শে ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শওকত ওমান থেকে দেশে ফিরে মা-বাবাকে না জানিয়ে বিয়ে করে চট্টগ্রাম শহরে বসবাস শুরু করেন।
এদিকে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে শাহজাহান আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েন। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিভিন্ন সময় তর্ক-বিতর্কও হয়। সোমবার রাত ১১ টার দিকে ঋণ পরিশোধের বিষয় নিয়ে শাহজাহানের সাথে পরিবারের সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে তার মেয়ে রুবি আক্তার অভি ও স্ত্রী নুরুন্নিছার সঙ্গে তার বাগবিতণ্ডা শুরু হয়। এসময় মেয়েকে শাসন করতে গিয়ে শাহজাহান তাকে চড়-থাপ্পড় দেন। একই সময় তাঁর পুত্রবধূর গায়েও একটি চড় লাগে।
এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাহজাহানের ছেলে বোরহান মিয়া ওরফে শওকত এবং কন্যা রুবি আক্তার অভি একটি গাছের বাটাম দিয়ে বাবাকে মাথা ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাত করেন। তাৎক্ষণিক শাহজাহান গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে রাত ২টার দিকে পরিবারের সদস্যরা তাঁকে প্রথমে বাঁশখালীর গুণাগরী আয়েশা সিদ্দিকা জেনারেল হাসপাতাল ও পরবর্তীতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ২টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
কালীপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আবুল কালাম বলেন, কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে মেয়েকে শান্ত করার জন্য চড়-থাপ্পড় দেন শাহজাহান। এসময় পুত্রবধূর গায়েও একটি চড় লাগে। পরে তার ছেলে ও মেয়ে দৌড়ে এসে বাবাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।
বাঁশখালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধাংশু শেখর হালদার বলেন, ভুক্তভোগী শাহজাহানের মরদেহ সুরতহাল প্রতিবেদনের জন্য বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
সময়ের আলো/এসএকে