আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর সময়ের পরিস্থিতি তুলে ধরে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, কোকো রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও গণতন্ত্রের আপসহীন নেত্রী খালেদা জিয়ার কনিষ্ঠ ছেলে। মায়ের কোলে সন্তানের লাশ’ এর চেয়ে মর্মান্তিক ঘটনা তার মনে পড়ে না। এটি ছিল অত্যন্ত হৃদয়বিদারক ও বিয়োগান্তক ঘটনা।
বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে আরাফাত রহমান কোকোর কবরে ফাতেহা পাঠ ও পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, এই কর্মসূচি একেবারেই অরাজনৈতিকভাবে করা হয়। যদিও বিএনপির অনেক নেতা এতে যুক্ত রয়েছেন। এমন এক পরিবেশে, এমন এক পরিস্থিতিতে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন। এই যাওয়াটাও ফ্যাসিবাদের এক চূড়ান্ত বহিঃপ্রকাশের মুখেই। তিনি আর নিজেকে ধাতস্থ করতে পারেননি, নিজেকে আর সামলাতে পারেননি। হৃদরোগের রোগী ছিলেন, অসুস্থতা ছিল। হৃদরোগের এই পরিস্থিতিতে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তিনি পৃথিবী থেকে চলে গেলেন।
কোকোর মরদেহ দেশে আসার সময় খালেদা জিয়ার বন্দিত্বের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, বন্দিনী মা, তাকে বালির ট্রাক, কাঠের ট্রাক দিয়ে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। তার চোখে ক্ষত ছিল, চোখের অপারেশন করা হয়েছিল। ঠিক ওই মুহূর্তে গোলমরিচের স্প্রে করে তাকে আরও অসুস্থ করে বন্দি করে রাখা হয়েছে। ঠিক ওই মুহূর্তে আপন সন্তানের লাশ তার কোলে তুলে দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই হৃদয়বিদারক ঘটনা, এই মর্মান্তিক ঘটনা, এই ট্র্যাজেডি, এই বিয়োগান্তক ঘটনার কথা আমার মনে হয় কোনো মহাকাব্যে লেখা আছে কি না। পৃথিবীর কোনো বিয়োগান্তক ঘটনার সঙ্গে এটার মিল আছে বলে আমার মনে নেই। সব বিয়োগান্তক ঘটনা, ট্র্যাজেডিকে অতিক্রম করে গেছে এই মর্মান্তিক ঘটনা, মায়ের কোলে সন্তানের লাশ। এটি ছিল প্রতিহিংসার বহিঃপ্রকাশ।
এ সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হক, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্যসচিব মোস্তফা জামান, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য এস এম জাহাঙ্গীর, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য রেজাউর করিম ফাহিম, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক ইসরাফিল খসরু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সময়ের আলো/কেএইচও