প্রধানমন্ত্রী ভারত যেতে পারেন এ মাসেই

এমএকে জিলানী

জাতীয়

ঢাকা-দিল্লি পারস্পরিক সন্দেহ দূর করে সম্পর্কের নতুন ভিত্তি তৈরি করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গত সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকায়

2026-08-13T00:44:41+00:00
2026-08-13T01:48:45+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
জাতীয়
প্রধানমন্ত্রী ভারত যেতে পারেন এ মাসেই
এমএকে জিলানী
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ১২:৪৪ এএম  আপডেট: ১৩.০৮.২০২৬ ১:৪৮ এএম
প্রধানমন্ত্রী ভারত যেতে পারেন এ মাসেই । ছবি : সময়ের আলো
ঢাকা-দিল্লি পারস্পরিক সন্দেহ দূর করে সম্পর্কের নতুন ভিত্তি তৈরি করতে চায়। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে গত সোমবার (১০ আগস্ট) ঢাকায় ভারতের নতুন হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সাক্ষাতের পর দিনই তিনি দিল্লি গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করেন। এ প্রেক্ষাপটে চলতি আগস্টেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী দিল্লি সফরে যেতে পারেন বলে কূটনৈতিক সূত্রে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়নে উভয় পক্ষই আগ্রহী। তবে সাম্প্রতিক অতীতের নানা ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে অবিশ্বাস তৈরি হয়েছে। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি সেখানে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তার বক্তব্য দেওয়ার সুযোগে ঢাকার অসন্তোষ রয়েছে। তার নেতৃত্বাধীন দলের অনেক নেতাকর্মীও ভারতে অবস্থান করছেন। এ ছাড়া পানি বণ্টনসহ বিভিন্ন বিষয়ে ন্যায্য হিস্যা না পাওয়ার অভিযোগও রয়েছে বাংলাদেশের।

অন্যদিকে ২০১৩ সালের ৩ থেকে ৫ মার্চ ভারতের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বাংলাদেশ সফরের সময় বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া পূর্বনির্ধারিত সাক্ষাৎ নিরাপত্তাজনিত কারণে বাতিল করেছিলেন। ওই ঘটনায় দিল্লির অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল বলে কূটনৈতিক সূত্রগুলো মনে করছে।

গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকার গঠনের প্রথম দিন থেকেই ভারত বলে আসছে, তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী। শুরুতে ঢাকা এ বার্তাকে স্বাগত জানালেও শেখ হাসিনাকে ভারতে অবস্থান করে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগের ক্ষেত্রে সম্পর্কের নতুন করে অবিশ্বাস তৈরি হয়।

এ পরিস্থিতিতে সম্পর্ক উন্নয়নের দায়িত্ব দিয়ে চৌকস রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদীকে ঢাকায় পাঠায় দিল্লির সাউথ ব্লক। দায়িত্ব নেওয়ার পর ভারতীয় হাইকমিশনার দুই দেশের জনগণের মধ্যে সম্পর্ক জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন এবং বাংলাদেশিদের জন্য ভারতীয় ভিসাসেবা চালুর উদ্যোগ নেন।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের আগের দিন রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গেও বৈঠক করেন ত্রিবেদী। সেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন ইস্যু, সম্পর্কের স্থবিরতা কাটানোর উপায় এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। পরে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে এসব বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা হয়েছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী গত সোমবার সাংবাদিকদের বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে প্রয়োজনীয় ‘এনেবলিং এনভায়রনমেন্ট’ বা সহায়ক পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ত্বরান্বিত করতে ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন আসামিদেরও প্রত্যর্পণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। ভারতের চাওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

সীমান্ত হত্যা ও পুশইন নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, বিষয়গুলো তার সঙ্গে আগের দিনের বৈঠকেই আলোচনা হয়েছে। ৫ আগস্টের ঘটনা নিয়ে বাংলাদেশ যে অসন্তোষ জানিয়ে ভারতকে চিঠি দিয়েছিল, সেটিও আলোচনায় এসেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশের অবস্থান ভারতকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে এবং ভারতীয় কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পরপরই দিল্লি সফরে যান দীনেশ ত্রিবেদী। সেখানে গত মঙ্গলবার ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক উন্নয়ন নিয়ে তার বৈঠক হয়। তিনি এখনও দিল্লিতে রয়েছেন এবং আগামী ১৪ আগস্ট ঢাকায় ফিরতে পারেন বলে জানা গেছে।

এই ধারাবাহিক যোগাযোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকরা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোর প্রতি সব দেশের শ্রদ্ধাশীল থাকা উচিত। ভারতের সঙ্গে তার আলোচনায় তিনি আশ্বস্ত হয়েছেন যে, বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে খাটো করার মতো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গত সোমবার বলেন, ভৌগোলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণে বাংলাদেশ ও ভারত পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল। অতীতকে পেছনে ফেলে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সুদৃঢ় করতে একটি ‘ফ্রেশ স্টার্ট’ বা নতুন সূচনা জরুরি।

তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বুধবার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সমাধান অযোগ্য কোনো সমস্যা নেই। আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। তার ভাষ্য, দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকে বলেছেন, দুই দেশের মধ্যে এমন কোনো সংকট নেই, যা সমাধান করা অসম্ভব। বাংলাদেশ থেকে ইতিবাচক বার্তা নিয়েই তিনি নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে আলোচনা করতে গেছেন।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মাহফুজুর রহমান দৈনিক সময়ের আলোকে বলেন, ধারাবাহিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে দুই দেশ বৈরী পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। তার মতে, আলোচনার দরজা খোলা রাখলে যেকোনো বৈরী পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং টানাপোড়েন নিরসন সম্ভব। দ্রুত অন্যান্য বিষয়েও কার্যকর আলোচনা শুরু হবে এবং পরস্পরের বিষোদগারের পরিবর্তে সুস্থ কূটনীতির ধারা ফিরে আসবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সব মিলিয়ে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কে জমাট বাঁধা বরফ গলতে শুরু করেছে বলে মনে করছেন কূটনীতিকরা। পারস্পরিক আস্থা পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় চলতি আগস্টেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দিল্লি সফরের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে


  বিষয়:   প্রধানমন্ত্রী  ভারত  আগস্ট  মাস  তারেক রহমান  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
জাতীয়- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: