অবশেষে বহুল প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি কে হচ্ছেন, আজই জানা যাবে সেই নাম। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ঘোষিত তফসিল অনুসারে আজ বৃহস্পতিবার মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন। ২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি পদে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে বিএনপির বিভিন্ন সূত্র বলছে, বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দার নাম অনেকটা নিশ্চিত; দলটির মহাসচিব ও স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) থেকে রাষ্ট্রপতি পদে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছে বিএনপি। দলের পক্ষে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করায় রাজনৈতিক মহলে কৌতূহলের সৃষ্টি হয়েছে। তবে ইসি সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি পদে একই ব্যক্তির নামে একাধিক মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সুযোগ আছে। সে ক্ষেত্রে যেকোনো একটি মনোনয়নপত্র বৈধ হলেই তিনি বৈধ প্রার্থী বলে বিবেচিত হন। রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী কে, তা জানা যাবে শেষ মুহূর্তে। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত। তবে বিএনপির প্রার্থীই যে ২৩তম রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন এটি নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই। কারণ সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বিএনপির।
দুপুরে জরুরি বৈঠকে বসবেন তারেক রহমান
নতুন রাষ্ট্রপতি ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার। এ তথ্য নিশ্চিত করে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য জানান, আজ বেলা ১২টার দিকে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই বৈঠকেই বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য, মন্ত্রী ও সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নতুন রাষ্ট্রপতি প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবেন। এরপরই নির্বাচন কমিশনে (ইসি) মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
এদিকে, এরই মধ্যে রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।
জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ার জন্য মনোনয়নপত্রে প্রার্থীর সম্মতিসূচক স্বাক্ষর বা একটি লিখিত সম্মতি বিবৃতি দেওয়ার যে বাধ্যবাধকতা রয়েছে, গত শনিবার ওই বিবৃতিতে মির্জা ফখরুল সই করেছেন বলেও বিএনপির একটি সূত্র জানিয়েছে।
বিএনপির সূত্র বলছে, ১৯৯১ সালে সবশেষ রাষ্ট্রপতি পদে ভোট হয়েছিল। ৩৫ বছর আগে সেই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে নির্বাচনে লড়েছিলেন মির্জা ফখরুল। যিনি এবার রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রথম পছন্দ। ২০ আগস্ট যে ভোট হবে তার কেন্দ্রে থাকবেন তিনিই। ১৯৯২ সালে মির্জা ফখরুল বিএনপির ঠাকুরগাঁও জেলা শাখার সভাপতি নির্বাচিত হন। একইসঙ্গে জাতীয়তাবাদী কৃষকদলের সহসভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ১৯৯১ সালে পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালে সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির মনোনয়নে সংসদ সদস্য নির্বাচন করে হেরে গেলেও থেমে যাননি। ২০০১ সালে অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একই আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে আওয়ামী লীগের রমেশ চন্দ্র সেনের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে জয়লাভ করে প্রথমবার সংসদে যান। শুধু প্রখর ব্যক্তিত্বের কারণে ঠাঁই পান খালেদা জিয়ার মন্ত্রিসভায়।
প্রথমে তিনি কৃষি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও পরবর্তীতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পান। ২০০৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন। তবে সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির কোনো অভিযোগ তন্নতন্ন করেও বের করতে পারেনি ওয়ান ইলেভেনের সরকার।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন চূড়ান্ত হলে বিএনপির সামনে সবচেয়ে বড় সাংগঠনিক প্রশ্ন হয়ে দাঁড়াবে নতুন মহাসচিব কে? এ ক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নাম আলোচনায় রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দলের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক কর্মসূচি এবং গণমাধ্যমে বিএনপির বক্তব্য তুলে ধরার ক্ষেত্রে তিনি সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন। মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতি হলে রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব করার সম্ভাবনা নিয়েও দলের ভেতরে আলোচনা রয়েছে। তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ এবং আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নামও মহাসচিব পদে আলোচনায় রয়েছে।
মহাসচিবের দায়িত্ব নিয়ে জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, তিনি দলের প্রতি শতভাগ আনুগত্য নিয়ে কাজ করছেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা অনুযায়ী নেতাকর্মীদের পাশে রয়েছেন।
বিরোধী দলের প্রার্থী অলি আহমদ
রাষ্ট্রপতি পদে জাতীয় সংসদের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য বিএনপির সাবেক নেতা, বর্তমানে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী মনোনীত করেছে।
গত রোববার মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে এই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক শেষে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম এ সিদ্ধান্তের কথা সাংবাদিকদের জানান।
রাষ্ট্রপতি ভোট যেভাবে
আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন সংসদ সদস্যদের প্রকাশ্য ভোটে। একজন সংসদ সদস্য একটি ভোট দিতে পারবেন। ভোট গ্রহণের জন্য নির্বাচন কমিশন আগেই প্রয়োজনীয়সংখ্যক ব্যালট পেপার প্রস্তুত করবে। প্রতিটি ব্যালট পেপারে দুটি অংশ থাকবে। কাউন্টার ফয়েল বা চেকমুড়িতে প্রত্যেক ভোটারের নাম ও স্বাক্ষরের জন্য স্থান নির্ধারিত থাকবে।
প্রতিটি ব্যালট পেপারের আউটার ফয়েলে, যেখানে ভোট দেন ভোটার, রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীদের নাম আদ্যক্ষর অনুযায়ী ক্রমানুসারে মুদ্রিত থাকবে। এর পাশে সংসদ সদস্য অর্থাৎ ভোটার তার পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ভোট দেবেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে