আমদানি জটিলতা কমাতে বড় উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

অর্থনীতি

আমদানি বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জটিলতা কমানো এবং বিদ্যমান নিয়মকানুনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে এক সমন্বিত সার্কুলার জারি

2026-08-13T20:39:34+00:00
2026-08-13T20:39:34+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬,
২৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬
অর্থনীতি
আমদানি জটিলতা কমাতে বড় উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের
গত এক বছরের সকল সার্কুলার এক জায়গায়
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২৬, ৮:৩৯ পিএম 
বাংলাদেশ ব্যাংক। সংগৃহীত ছবি
আমদানি বাণিজ্যে বৈদেশিক মুদ্রা লেনদেনের জটিলতা কমানো এবং বিদ্যমান নিয়মকানুনকে আরও সহজ, স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী করতে এক সমন্বিত সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত এক বছরে জারি করা বিভিন্ন পৃথক নির্দেশনাবলীকে একীভূত করে এক ছাতার নিচে নিয়ে আসা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এই উদ্যোগের ফলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গতিশীলতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আমদানি প্রক্রিয়া অনেক বেশি সহজ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এই সংক্রান্ত নির্দেশনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।

নতুন এই সমন্বিত সার্কুলারের মাধ্যমে মূলত ২০২৫ সালের ১৪ আগস্ট জারি করা ‘এফই সার্কুলার নম্বর-৩৩’ হালনাগাদ করা হয়েছে। বিগত এক বছরে সময় সময় জারি করা বিভিন্ন নির্দেশনাকে এক জায়গায় নিয়ে আসায় আমদানিকারক ও ব্যাংকগুলোর জন্য বৈদেশিক মুদ্রা সম্পর্কিত বিধিবিধান পর্যালোচনা ও অনুসরণ করা অনেক সহজ হবে। 

এই নতুন আদেশ জারির সঙ্গে সঙ্গেই আমদানি সংক্রান্ত আগের সব পুরোনো নির্দেশনামূলক সার্কুলার বাতিল করা হয়েছে। তবে আমদানি সংক্রান্ত আগের রিপোর্টিংয়ের নির্দেশনা যেভাবে ছিল, সেভাবেই বহাল থাকবে। বৈদেশিক মুদ্রা নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৪৭-এর ২০(৩) ধারার ক্ষমতাবলে জারি করা এই সমন্বিত নির্দেশনা আগামী এক বছর কার্যকর থাকবে এবং এই সময়ের মধ্যে নতুন কোনো নির্দেশনা এলে তা এর সঙ্গেই সামঞ্জস্য রেখে প্রয়োগ করতে হবে।

নতুন এই নীতিগত কাঠামোতে আমদানি বাণিজ্যের যাবতীয় দিক বিস্তারিতভাবে কাভার করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে অনলাইন রিপোর্টিং ব্যবস্থা, ঋণপত্র (এলসি) খোলা, অনুমোদিত পরিশোধ পদ্ধতি, বিদেশে অগ্রিম অর্থ প্রেরণ, বিল অব এন্ট্রি দাখিল, সরবরাহকারী ও ক্রেতার ঋণ, ব্যাক-টু-ব্যাক এলসি এবং আমদানি দায় পরিশোধের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান। 


এ ছাড়া বিকল্প বাণিজ্য অর্থায়ন ব্যবস্থা, আধুনিক ডিজিটাল পদ্ধতিতে আমদানি ডকুমেন্ট প্রক্রিয়াকরণ, আমদানি পরিশোধের ক্ষেত্রে রপ্তানি আয় সংরক্ষণ, বৈদেশিক মুদ্রায় অভ্যন্তরীণ এলসি পরিচালনা, বিশেষায়িত ও মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলের নিয়মাবলি এবং স্বর্ণ, রূপা, গহনা ও বৈদেশিক মুদ্রার নোট আমদানির বিষয়টিও অত্যন্ত স্পষ্টভাবে এই সার্কুলারে তুলে ধরা হয়েছে।

এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের এই যুগোপযোগী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে দেশের ব্যবসায়ী সমাজ। তাদের মতে, আধুনিক ডিজিটাল ডকুমেন্ট প্রসেসিং ও বিকল্প অর্থায়নের মতো বিষয়ের অন্তর্ভুক্তি বর্তমান বৈশ্বিক বাণিজ্যের বাস্তবতার সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ। 

তবে নতুন এই বাণিজ্য কাঠামোর সুফল যেন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছায়, সে জন্য মাঠপর্যায়ে কঠোর ও কার্যকর বাস্তবায়ন, প্রযুক্তিগত অবকাঠামোর আধুনিকায়ন এবং ব্যাংক ও আমদানিকারকদের প্রয়োজনীয় সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন ব্যবসায়ী নেতারা।

সময়ের আলো/জেডি 


  বিষয়:   আমদানি  জটিলতা  বড় উদ্যোগ  কেন্দ্রীয় ব্যাংক 


Loading...
Loading...
অর্থনীতি- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: