উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ক্রেতাদের হাতে তুলে দেওয়া হলো ৮টি প্রশিক্ষিত কুকুর, যার মধ্যে ৫টি হচ্ছে ল্যাব্রাডর জাতের ও ৩টি জার্মান শেফার্ড। ঢাকা র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) থেকে অবসরে যাওয়া ৮টি প্রশিক্ষিত কুকুর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়েছে।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর মিরপুর-১৪ পুলিশ লাইন্সে র্যাব ডগ স্কোয়াড প্রাঙ্গণে এই ব্যতিক্রমী নিলাম অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। নিলামে ওঠা কুকুরগুলোর মধ্যে ছিল পাঁচটি ল্যাব্রাডর এবং তিনটি জার্মান শেফার্ড। অপরাধ ও মাদকবিরোধী অভিযানে দীর্ঘদিন সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা এই কুকুরগুলোর বয়স ছিল ৬ বছর ৭ মাস থেকে ৮ বছর ৩ মাসের মধ্যে। জার্মান শেফার্ড জাতের ‘উইংক’ নামের কুকুরটি নিলামে হাতবদল হয় ২৬ হাজার টাকায়।
প্রশিক্ষিত প্রাণীটি নিজের করে নিতে পেরে খুশি ব্যবসায়ী যুবায়ের সারোয়ার। তিনি বলেন, আমি কুকুর পালন অনেক বছর ধরেই। নিলামের খবর পেয়ে আমার ইন্টারেস্ট লাগে রাত ১২টার দিকে, মনে মনে চিন্তা করলাম সকালে গিয়ে দেখি কী করা যায়। তো সকালে আসলাম, এসে দেখলাম খুবই সুন্দর আয়োজন। যে দুটি কুকুর আমি পছন্দ করেছি ওই দুটো কুকুরই আমার ভাগ্যে আসছে। প্রথমে ল্যাব্রাডর কিনেছি ও আর্মস ডিডেকটিভ ডগ আরেকটা হচ্ছে জার্মান শেফার্ড ‘উইংক’, ও আর্মস অ্যান্ড এক্সপ্লোসিভ ডিডেকটিভ।
‘বিলন’কে নিতে প্রথম বিটে পেয়েছি কিন্তু ‘উইংক’ নিতে আমার একটু ফাইট করতে হয়েছে। আমার গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি রয়েছে এবং ফার্মিংয়ের সঙ্গে একটা হাঁসের খামারও রয়েছে। এর জন্য আমি যদি একটা গার্ড ডগ বা ট্রেন ডগ নিই সে ক্ষেত্রে আমার অনেকগুলো পারপাস ফুলফিল হয়। এ ছাড়া ডগ সঙ্গে থাকলে তো মানসিকভাবেও খুশি লাগে বলেও জানান তিনি।
উইংক নামের এই কুকুর ছাড়াও নিলামে উঠেছে বিলন, ডিগবি, ডন, ইভান, এলমা, মিরো ও হেইভি জুনিয়র নামের আরও ৭টি কুকুর। নিলামে অংশ নিতে আগ্রহীদের দিতে হয়েছে ১ হাজার টাকার নগদ জামানত। এ ছাড়া বিক্রীত মূল্যের ওপরে ১০ শতাংশ আয়কর এবং ১৫ শতাংশ ভ্যাট কেটে নেওয়া হয়েছে ক্রেতাদের পকেট থেকে।
র্যাব বলছে, একসময় আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ অভিযানের সঙ্গী ছিল এই কুকুরগুলো। কখনো অনুসন্ধান, কখনো টহল, আবার কখনো বিস্ফোরক শনাক্তকরণে প্রাণীগুলো দেখিয়েছে সাফল্য। তবে বয়সজনিত কারণে আগের মতো সুচারুভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারছে না এগুলো।
র্যাবের ডগ স্কোয়াডের উপপরিচালক মো. তানজিরুর হাসান বলেন, আমাদের র্যাব ডগ স্কোয়াডের যেসব কুকুর বয়সজনিত কারণে বা অসুস্থতাজনিত কারণে অথবা যেকোনো কারণে অপারেশনাল ইফেসিয়েন্সি কমে যায় তখন এগুলোকে আমরা নিলাম প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাতিল করি। এগুলো আমাদের দাফতরিক প্রক্রিয়া। এগুলো স্বভাবগতভাবে খুবই শান্ত ও বন্ধুত্বসুলভ আচরণে অভ্যস্ত। এরা কখনো কারও ওপর অ্যাটাক করে না। যারা এটা নিচ্ছে কোনো ধরনের সমস্যা নেই।
র্যাব সূত্রে জানা গেছে, নিলামে জার্মান শেফার্ড জাতের ‘উইংক’ নামের কুকুরটি সর্বোচ্চ ২৬ হাজার টাকায় এবং ‘এলমা’ নামের আরেকটি জার্মান শেফার্ড ১৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ডগ স্কোয়াডের এই কুকুরগুলো মূলত অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে বিশেষভাবে পারদর্শী ছিল। নিলামকে কেন্দ্র করে মিরপুর পুলিশ লাইন্সে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দীর্ঘদিন একসঙ্গে বিপজ্জনক সব অভিযানে অংশ নেওয়া এই অবলা ও বিশ্বস্ত প্রাণীদের বিদায় জানাতে গিয়ে ডগ স্কোয়াডের হ্যান্ডলার এবং র্যাব সদস্যরা আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন।
র্যাব কর্মকর্তারা জানান, সাধারণত বার্ধক্যজনিত কারণে কার্যক্ষমতা কমে এলে আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে এই কুকুরগুলোকে অবসরে পাঠানো হয়। এরপর উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে নাগরিকদের কাছে এগুলো হস্তান্তর করা হয়, যাতে অবসরেও তারা ভালো যত্ন ও পারিবারিক পরিবেশ পায়।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা